সর্বশেষ গত সোমবার রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়। তারা হলো—গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চন্ডীপর্দি গ্রামের বরকতের সাত মাস বয়সী ছেলে আয়ান এবং ফরিদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকার রাফসানের দুই বছর বয়সী মেয়ে আদিবা।
ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৬ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত ঈদের ছুটির সময়ে ফরিদপুরের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৩৭ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এই স্বল্প সময়ে ছয় শিশুর প্রাণহানি হয়েছে, যা যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ১৫৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন, যাদের অধিকাংশই শিশু।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক মানুষ গ্রামের বাড়িতে আসায় হামের সংক্রমণ কিছুটা বেড়েছে। তবে আমরা আশাবাদী, আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং রোগীর সংখ্যা কমে আসবে।’
আরও পড়ুন:
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, ‘শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।’ হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
ফরিদপুরের ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. নিরঞ্জন ভৌমিক জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত শিশুর জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির (হাম-রুবেলা টিকা) আওতায় আনতে হবে।
ডা. নিরঞ্জন আরও মনে করেন, ঈদের ছুটিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে যারা গ্রামে এসেছে, সেসব শিশুর মেডিকেল চেকআপ প্রয়োজন। দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা এবং শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে হামের বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।





