জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় চার বছর ধরে বন্ধ সাগরখালী সেতু নির্মাণকাজ

নির্মাণাধীন সাগরখালী সেতু
এখন জনপদে
2

জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না করেই কাজ শুরুর কারণে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কের সাগরখালী নদীর উপর নির্মাণাধীন ব্রিজের কাজ চার বছর ধরে আটকে আছে। এতে নষ্ট হচ্ছে সরকারি অর্থ, পাশাপাশি প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহন চালকদের।

জনগুরুত্বপূর্ণ কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর নির্মিত ব্রিজ। সাগরখালী নদীর ওপর ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটির কাজ পান ‘জন জেভি’ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২২ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে গেছে কাজ। প্রায় ৬৫ভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও বাকি কাজ বন্ধ আছে ৪ বছর ধরে। প্রশ্ন মেগা প্রকল্পের কাজ অধিগ্রহণ ছাড়াই কিভাবে শুরু করলো সড়ক ও জনপদ বিভাগ?

ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা জানান, কোনো টাকা-পয়সা, কোনো ক্ষতিপূরণ না দিয়ে, এমনকি অধিগ্রহণের কোনো কাগজপত্র না প্রস্তুত করেই তারা এ কাজটা তখন করতে চায়। এমন কি এখন অব্দি কোনো অর্থও দেয়া হয়নি।

ব্রিজটি নির্মাণ শেষ না হওয়ায় বিকল্প পথে চলাচল ও ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতে দুর্ভোগে বাড়ছে পথচারী ও এলাকাবাসির। ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়াই এমন মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহলও।

কুষ্টিয়া সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য কারশেদ আলম বলেন, ‘আংশিক কাজ হয়ে আংশিক পড়ে আছে মুখ থুবড়ে। এখানে রাষ্ট্রের অর্থ নষ্ট হয়েছে এবং মানুষের জনদুর্ভোগ। প্রকল্পের যে উদ্দেশ্য ছিলো সেটা বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা চাই যে এটা নিরসন হোক।’

তবে এমন অভিযোগ স্বীকার করে সড়ক ও জনপদ বিভাগের এ কর্মকর্তা বলেছে, জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতার কারণেই কাজ বন্ধ রয়েছে। দ্রুত এ জটিলতা নিরসন করে নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে।

কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মনজুরুল করিম বলেন, ‘আমাদের ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন যাবত চলমান আছে। এবং এটা যেহেতু ভূমি অধিগ্রহণ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া, প্রক্রিয়া যাবতীয় প্রক্রিয়াকরণ সমাপ্তি সাপেক্ষে এ কাজটি হবে।’

ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত সমাধান করে কাজটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

কুষ্টিয়া জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, ‘আশা করি যে, এ প্রকল্প কার কী গাফিলতি এটা চিহ্নিত করব এবং কনসার্ন অথরিটিকে অবহিত করব। এ প্রকল্পের কাজ যাতে দ্রুত শুরু হয়, এবং জনগণের নিজস্ব জমিতে যেহেতু এ ব্রিজটি হচ্ছে মর্মে জানালেন। অধিগ্রহণটি বাস্তবায়ন হয় এবং তার প্রকৃত মূল্য তারা যেন পান, সে বিষয়ে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

জটিলতা নিরসন করে দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের কাজ শেষ না হলে-একদিকে যেমন অপচয় হবে সরকারি অর্থ, অন্যদিকে ভোগান্তি বাড়বে সাধারণ মানুষের। এমনটাই আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

জেআর