চট্টগ্রাম বন্দরে খালি কনটেইনারের জট: বন্ডেড সুবিধার বাইরে রাখার অনুমতি চায় বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দরে অপেক্ষমাণ জাহাজ
অর্থনীতি
0

চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট কমানো ও অপারেশনাল কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে খালি কনটেইনার বন্দর ও বেসরকারি ডিপোর বাইরে রাখতে চায় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করে এনবিআরকে দুই দফা চিঠি দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ফোর্স শিপমেন্ট রুখতে খালি কনটেইনার বন্দরের বাইরে নিতে চায় শিপিং এজেন্টরা। যদিও ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডা বলছে, খালি কনটেইনার অন্য কাজে অপব্যবহারের ঝুঁকি ও রাজস্ব সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কনটেইনারে আমদানি হওয়া পণ্যের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বন্দরের ইয়ার্ডে খুলে ডেলিভারি দেয়া হয়। পণ্য ডেলিভারির পর কনটেইনার খালি হলে সিংহভাগ চলে যায় বেসরকারি ২৩টি কনটেইনার ডিপোতে। এছাড়া রপ্তানি পণ্য নিয়ে কিংবা খালি অবস্থায় প্রতিদিন পুনরায় জাহাজীকরণ করা হয় দুই থেকে তিন হাজার কনটেইনার। বছরে সাত থেকে আট লাখ খালি কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করে চট্টগ্রাম বন্দর। যা মোট কনটেইনারের হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ।

আমদানি বেশি, খালি কনটেইনার নিতে ডিপোগুলোর দেরি কিংবা জাহাজীকরণ কম হলে অনেক সময় বন্দরের ইয়ার্ডে অতিরিক্ত খালি কনটেইনার জমে যায়। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ধর্মঘট কিংবা কোনো কারণে পণ্য ডেলিভারি কম হলে বন্দরে কনটেইনার জট হয়। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। খালি কনটেইনার বেশি জমলে চাপে পড়ে বেসরকারি ডিপোগুলোও। গড়ে প্রতি দিন ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টিইউএস খালি কনটেইনার থাকে বেসরকারি ডিপোতে।

এনবিআরের বিধান অনুযায়ী বন্ডেড এরিয়া হিসেবে শুধু বন্দর ও ডিপোগুলো আমদানি ও রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার ও খালি কনটেইনার সংরক্ষণ করতে পারে। এ অবস্থায় প্রতিবেশী দেশের উদাহরণ টেনে বন্দরে জট কমানো ও কাজে গতিশীলতা বাড়াতে শিপিং এজেন্টের ব্যবস্থাপনায় খালি কনটেইনার সংরক্ষণের অনুমতি দিতে এনবিআর চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে বন্দর।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, খালি কনটেইনারগুলো যদি আমরা বন্ডেড এরিয়ার বাইরে রাখার অনুমতি পাই, তাহলে আমাদের বন্দরের অভ্যন্তরে বন্ডেড এরিয়ার ক্যাপাসিটি আরও বৃদ্ধি পাবে। ফলে আমাদের বর্তমান যে ইয়ার্ড ফ্যাসিলিটি আছে, এই ফ্যাসিলিটি ব্যবহার করে আরও অধিক পরিমাণ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে।

বন্দরে থাকা খালি কনটেইনার নিয়ে টেনশনে থাকে শিপিং এজেন্টরা। অনেক সময় ইয়ার্ডে জমে থাকা খালি কনটেইনার না জানিয়েই সিঙ্গাপুর, কলম্বো বা ভিন্ন কোন বন্দরগামী জাহাজে তুলে দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতি হয়।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, দুইটার ভেতরে সমন্বয় করতে না পেরে আমার এম্পটি কনটেইনার যেটা আমরা ইমপোর্ট করে নিয়ে আসছি, সেটা আবার ফোর্স লোড করে দিয়ে দিচ্ছে। তাতে করে ওই কনটেইনারের পিছনে এক্সট্রা পয়সা খরচ করা হচ্ছে। সে এবং বন্দরকেও আমি অতিরিক্ত চার্জ দিচ্ছি।

খালি কনটেইনার বন্দর বা ডিপোর বাইরে থাকলে বিক্রি বা অন্য কাজে ব্যবহার হতে পারে। তাই খালি কনটেইনারের অপব্যবহারের ঝুঁকি ও রাজস্ব সুরক্ষার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এক্ষেত্রে আইসিডি স্থাপনের বিদ্যমান নীতিমালার শর্ত শিথিল করে শুধু খালি কনটেইনারের জন্য পৃথক ডিপো করতে চায় তারা।

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোটস্ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব রুহুল আমিন শিকদার বলেন, সার্বিক বিবেচনায় কাস্টম হাউস খালি কনটেইনারগুলোকে বন্ডের আইটেম হিসেবে বিবেচনা করে বন্ডের জায়গাগুলোতে এটা সংরক্ষণের অনুমতি দিয়েছে। এখন নন-বন্ডেড করে দিলে অপারেশনাল সুবিধা হবে, এটাও সত্যি কথা। ডিপোগুলোর উপরও কিছুটা চাপ কমে যাবে।

পণ্য বোঝাই কন্টেইনারের পাশাপাশি বছরে প্রায় ১৩ লাখ খালি কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং করে ২৩টি বেসরকারি ডিপো। যা ডিপোগুলোর আয়ের বড় উৎস। বন্দরের চিঠি পেয়েছে স্বীকার করে কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, এনবিআর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

ইএ