কাগজে-কলমে বরিশাল নগরীতে খালের সংখ্যা ২৪। তবে দখল-দূষণ আর অপরিকল্পিত নগরায়ণে অস্তিত্ব বিলীন হয়েছে বেশির ভাগের। একসময় যাকে বলা হতো ‘বাংলার ভেনিস’, সেই নদী-নালা আর জালের মতো ছড়িয়ে থাকা খালের শহর বরিশাল এখন নিজেই ধুঁকছে অস্তিত্ব সংকটে।
বরিশাল নগরীর শোভা রানীর খাল। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দখলদারদের ভয়াল থাবা এখন মানচিত্র থেকে মুছে ফেলেছে এ খালের অবয়ব।
এ চিত্র নগরীর মাঝ থেকে বয়ে চলা প্রায় সব খালের। যে ৭টি কোনো রকমে টিকে আছে, সেগুলোর বুকেও এখন চলছে মৃত্যুর অপেক্ষা। মৃতপ্রায় এসব খালের নাব্য ফিরিয়ে আনতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও বছর ঘুরতেই পলি আর বর্জ্যে আবারও ভরাট হয়ে গেছে খাল।
আরও পড়ুন
বাংলাদেশ পরিবেশ উন্নয়নের সমন্বয়ক রফিকুল আলম বলেন, গত ৩ বছরে, ২২ সালে প্রায় ৮ কোটি টাকার ৭টা খালের জন্য ইয়ে করছে, এরই মধ্যে ৬টা খাল পরবর্তীতে এইটা আসছে। এ ৮ কোটি টাকার যে খালের কাজগুলি করছে, ও কোনো কাজই হয় নাই। কারণ, এই দখলগুলি কারা করে? দূষণ কারা করে? সব রাজনৈতিক প্রভাবশালী লোকগুলি।’
জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল এ প্রাকৃতিক জলপথ এখন পরিণত হয়েছে নগরীর উন্মুক্ত নর্দমায়। কোথাও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে পানিপ্রবাহ, পানি ঢেকে গিয়েছে কচুরিপানায়। এর জন্য সঠিক তদারকি, জবাবদিহিতার অভাব দায়ী বলে মনে করছেন নগরবাসী।
স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, ‘খালগুলো নষ্ট হওয়াতে কি হয়েছে, আমাদের বরিশালে কিন্তু জলাবদ্ধতা। একটু বৃষ্টি হলেই দেখবেন সব জায়গায় পানি জমে আছে।’
খালগুলোর স্থায়ী সুরক্ষার জন্য দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সিটি করপোরেশন প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, ‘এ প্রজেক্টটা যদি একনেকের মিটিংয়ে পাস হয়ে আসে, আমি মনে করি যে বরিশালে দীর্ঘমেয়াদী খাল রক্ষা বা খালের সৌন্দর্য বা বরিশালের মানুষ এই সুবিধাটা পাবে এই প্রজেক্টের মাধ্যমে।’
ব্রিটিশ শাসনামলে এ অঞ্চলে ১০৮ টি খালের অস্তিত্ব ছিলো। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বরিশালে ২২ থেকে ২৩টি খালের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।




