বাজেটে গ্রামীণ অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যখাতে বাড়তি গুরুত্ব, বাস্তবায়নের নজর বিশেষজ্ঞদের

কৃষি কাজ
এখন জনপদে
0

প্রস্তাবিত বাজেটে গ্রামীণ অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সবচেয়ে বেশি। তবে রাজনীতিবিদ এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজেটের আকার বাড়লে চলবে না, বাস্তবায়নের ওপর নজর দিতে হবে।

দেশে ৪৮ ভাগ জনগোষ্ঠী কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও তাদের রয়েছে সুযোগ সুবিধার অভাব। বাজেটে কৃষিতে বিপুল বরাদ্দের মধ্য থেকে কৃষিভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ প্রদান, ও ভুর্তকীর মাধ্যমে কৃষককে সমৃদ্ধ করা গেলে গ্রামীণ জনপদের উন্নতি সম্ভব। তবে শুল্ক কমানোর কারণে সার, বীজ, কীটনাশকের দাম কিছুটা কমার আশা দেখছেন কৃষিবিদরা।

সরকারি আজিজুল হক কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ফসল সংরক্ষণ একটা বড় সমস্যা। ফসল সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ করা যেতে পারে। কৃষিতে মৎস্য একটা বড় সেক্টর, বিভিন্ন জায়গায় মৎস্য প্রিজারভেশন সেন্টার গড়ে তোলা যেতে পারে।’

কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার যে বাজেট দিয়েছে সেখানে সার আমদানির ক্ষেত্রে পুরো শুল্ক তুলে দিয়েছে, সার এবং কীটনাশক, এগুলো দাম কমে যাবে সরকারের এ নীতির ফলে।’

আরও পড়ুন:

ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে রোগীরা ছুটে আসেন জেলা শহরের হাসপাতালে। তবে গ্রামাঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে বরাদ্দ বাড়ছে এবারের বাজেটে। বাজেট হিসেবে হাতের নাগালে সেবা পাবেন এমন প্রত্যাশা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের।

রোগীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘জ্বর, সর্দি, হাঁপানির ভালো চিকিৎসা গ্রাম-মফস্বলে হয় না। এজন্য আমাদের ভালো চিকিৎসার জন্য শহরে যেতে হয়।’

তবে এ বাজেট গতানুগতিক বাজেট উল্লেখ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বাড়ানোর ওপর জোর দেন সচেতন মহল। আর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, ওষুধ সরবরাহ এবং জনবল সংকট দূর করে চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করা প্রয়োজন এবং এই বাজেটে তা বাস্তবায়ন হবে প্রত্যাশা চিকিৎসকদের।

বগুড়া সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মজিদুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামগঞ্জের যে কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স—এগুলোতে যদি ডাক্তারের পদায়ন দিতে পারি এবং পর্যাপ্ত ওষুধ, লজিস্টিক সাপ্লাই দিতে পারি তাহলে গ্রামাঞ্চলের মানুষ হাতের নাগালে উন্নত চিকিৎসা পাবে। স্বাস্থ্যসেবা কিছুটা নিশ্চিত হবে।’

এসএস