শান্ত জনপদ বরগুনায় থামছেই না মৃত্যুর মিছিল। একের পর এক রহস্যজনক মৃত্যু আর হত্যাকাণ্ডে মানুষের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সদর উপজেলার পাতাকাটা গ্রামে জামিনে বের হয়েই ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাকে কুপিয়ে জখম করে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী ইব্রাহিম হোসেন কালু। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় কালু।
ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই পাথরঘাটা পৌরসভার সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় মিজানুর রহমান নামে এক রিকশাচালকের মরদেহ। এছাড়া সদর উপজেলার গৌরীচন্নায় ব্যবসায়ীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্বজনদের অভিযোগ, জমিজমা ও ব্যবসায়িক বিরোধে পরিকল্পিতভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় একজন বলেন, ‘চিঠিতে লেখা যে, ওই আগের বউ শাহিদা হেই নামে তুমি হেগো নিয়ে সুখে-শান্তিতে সংসার করো। সবকিছু লিখে গেছে।’
আরও পড়ুন
এ তালিকায় রয়েছে আত্মহত্যা এবং রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাও। গত ৩ জুন ডাকবাংলোতে মা ও দুই কন্যার রহস্যজনক মৃত্যু, সদরে ৯৩ বছরের এক বৃদ্ধা ও বামনায় ১৭ বছরের এক কলেজ ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ ও সবশেষ তালতলী থানার ব্যারাকে পুলিশ কনস্টেবলের আত্মহত্যা। এছাড়াও স্বামীর পরকীয়া ও দ্বিতীয় বিয়ের জেরে চিরকুট লিখে গৃহবধূর আত্মহত্যা- যদিও স্বজনদের দাবি, আত্মহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ড। নিহতের ভাই বলেন, ‘রক্ত দেখার পরে আমরা তখনি বুঝছি আমার ভাইরে রক্ত আর আমার ভাইরে মাইরা ফেলাইছে।’
নিহতের স্বজনরা জানান, যারা সন্দেহের তালিকায় আছে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ যেন করা হয়। মাত্র ২১ দিনে জেলাজুড়ে ১৬টি মরদেহ উদ্ধার প্রমাণ করে- আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক নাজুক। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আইনশৃঙ্খলা সংস্থার প্রতি মানুষের আস্থা হারাবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।
বরগুনা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. নূরুল আমিন বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার মানে এত ব্যাপক ব্যবহার, যেটার কারণে মানুষ এখন মানসিকভাবেই মানুষ এখন ডিমরেলাইজড হয়ে গেছে। মাদক এমন একটা এখন সামাজিকভাবে এমন ছড়িয়ে গেছে, এ যে কালুর হত্যাকাণ্ডের কথা মাদক। মাদককে কেন্দ্র করেই মূলত তো এখানে আমাদের সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি হওয়া করা দরকার, অ্যাওয়ারনেস বাড়ানো দরকার।’
সমাজকর্মী মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘দিন দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটাই অবনতির দিকে যাচ্ছে। বেশ কয়েকটা মার্ডারের কথা আমরা শুনেছি। এর একমাত্র কারণ হিসেবে আমি বলব যে বরগুনায় মাদকের যে বিস্তার লাভ করেছে, এটি অনেক ভয়ংকরভাবে লাভ করেছে। মাদক নির্মূল না করতে পারলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা আমার কাছে মনে হয় অসম্ভব হয়ে পড়বে।’
বরগুনার এ সার্বিক পরিস্থিতিতে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। পুলিশ বলছে, প্রত্যেকটি মৃত্যুর পেছনের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি। রিসেন্ট পাস্টে একাধিক ঘটনা ঘটেছে, বিভিন্ন কারণে বিভিন্নভাবেই ঘটেছে। আমরা প্রত্যেকটি বিষয়কে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি এবং প্রত্যেকটি বিষয়ে নিয়েই আলাদা আলাদা টিম কাজ করছে।’
অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বরগুনার সাধারণ মানুষের মনে আবারও স্বস্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনবে প্রশাসন, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।





