প্রতিটি মানুষেরই একটি ঠিকানা থাকে। একটি জন্মভূমি, যেখানে বসবাসের আজন্ম লালিত স্বপ্ন থাকে মানুষের। কিন্তু কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে বসবাসরত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার কাছে সেই স্বপ্ন যেন দিন দিন দূরে সরে যাচ্ছে। বিশ্ব শরণার্থী দিবসে যখন সারা বিশ্ব বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার ও মর্যাদার কথা স্মরণ করছে, তখন কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে বেড়েই চলেছে অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ আর দীর্ঘ প্রতীক্ষার বেদনা।
বছরের পর বছর পেরোলেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় নেই দৃশ্যমান অগ্রগতি। আন্তর্জাতিক সহায়তাও ক্রমশ কমছে। ফলে খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় তৈরি হচ্ছে নতুন সংকট। রোহিঙ্গারা বলছেন, মর্যাদা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে তারা নিজ দেশ মিয়ানমারেই ফিরতে চান।
রোহিঙ্গারা জানান, রোহিঙ্গা এত বছর পর আমাদের মর্যাদা আর অধিকার নিয়ে যেন আমরা নিজেদের দেশে ফিরে যেতে পারি, সেই অনুরোধ করেন তারা। এবং শরণার্থী হিসেবে জীবন অনেক কষ্টের তাও বলেন।’
রোহিঙ্গা নেতাদের অভিযোগ, রাখাইনের চলমান সংঘাতকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে।
এআরএসপিএই’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জুবায়ের বলেন, ‘আমরা হচ্ছি রোহিঙ্গা, বার্মা আমাদের বাঙালি বলে। পুরো দুনিয়া বাংলাদেশ আর বার্মাকে নিয়ে মেতে আছে, কিন্তু এই সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না। এখনও মিলিটারি সেখানে গেম খেলছে আর রাখাইনকে অশান্ত করে রাখছে, যাতে আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা না থাকে।’
এদিকে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। এর প্রভাব স্থানীয় অর্থনীতি, পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও পড়ছে।
কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারি বলেন, ‘উখিয়া-টেকনাফের বাচ্চাদের, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা একদম খারাপ হয়ে গেছে। ওখানকার ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে না, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘোরাঘুরি করে, নানা ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য করে।’
মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে রোহিঙ্গারা সম্মানজনকভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবে। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
কক্সবাজার শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা আশা করব মিয়ানমার, মিয়ানমারের সরকার এবং রাখাইনে যারা রয়েছেন—যে নন-স্টেট অ্যাক্টর যারা রয়েছেন, তাদের সঙ্গে আমাদের সরকার আলোচনা শুরু করবে এবং শিগগিরই আমরা মনে করি প্রত্যাবাসন সম্ভব হবে।’
২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট রোহিঙ্গা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা সেখানে অংশ নেন। তবে এতো আলোচনা, কূটনীতি ও প্রতিশ্রুতির পরও প্রত্যাবাসনের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় হতাশ রোহিঙ্গারা।





