টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে বান্দরবানে পাহাড় ধসের শঙ্কা

পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা একটি বাড়ি
এখন জনপদে
0

বান্দরবানে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বসবাস করছে লক্ষাধিক মানুষ। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে দেখা দিয়েছে পাহাড় ধসের আশঙ্কা। ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সরিয়ে না নিলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে প্রাণহানির ঘটনা। এদিকে প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, দূর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলায় দুই শতাধিক আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পাহাড়ের ঢালে মাটি কেটে বসবাসের জন্য তৈরি করা হয়েছে বসতঘর।

বর্ষায় টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে যেকোন সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে এসব ঘর। সদর, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা, থানচি, রোয়াংছড়িসহ সব খানে একই চিত্র। এভাবেই দিনের পর দিন পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে লক্ষাধিক মানুষ। মূলত, এখানে সমতলভূমির পরিমাণ কম থাকায় ও অধিকাংশ বাসিন্দা দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করার কারণে অল্প দামে পাহাড়ি জায়গা ক্রয় করে মাটি কেটে সেখানে বসতি স্থাপন করে।

শুধু তাই নয়, শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কারণে বর্ষায় দেখা দেয় পাহাড় ধ্স। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষনে দেখা দিয়েছে পাহাড় ধসের আশঙ্কা। ঝুঁকিতে বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। তবে ঝুঁকি জেনেও নিজেদের বসত ভিটা ছেড়ে যেতে নারাজ বাসিন্দারা। পাহাড় কাটা বন্ধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। 

বান্দরবান পৌরসভার পৌর প্রশাসক মো. মনজুরুল হক বলেন, ‘পাহাড়ের পাদদেশে যারা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে এবং পাহাড় কাটার কাজের সাথে সম্পৃক্ত তাদেরকে সচেতন করার জন্য আমরা পৌরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং করার ব্যবস্থা গ্রহণ করব এবং এই বিষয়টি আগামী জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে আমি উত্থাপন করব যাতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ সকলেই মিলেই যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই পাহাড় কাটা আমরা বন্ধ করতে পারি।’ 

বর্তমানে টানা বৃষ্টিসহ দূর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি ও পাহাড় ধসে দূর্ঘটনা এড়াতে পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসক। বান্দরবানের জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, ‘বৃষ্টিপাতের ইনটেনসিটি ও পাহাড় ধসের ইনটেনসিটি বৃদ্ধি পায়, ডেফিনেটলি তারা আসতে না চাইলেও, স্বভাবতই সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে যেটা হয়, তারা তাদের বসতভিটা থেকে অন্য কোথাও সরতে চান না। জোরপূর্বক হলেও আমরা আসার ব্যবস্থা করব, যখন আমরা এর আশঙ্কাটা বোধ করব।’ সরকারি তথ্যমতে বান্দরবান জেলায় গত ৫ বছরে পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৬৩ জন মানুষ।

এএম