২০ লাখ মানুষের জন্য নেই পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার, ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

ঝুঁকি নিয়ে তীরে ফিরছে চরাঞ্চলের মানুষ
এখন জনপদে
0

ভোলায় মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মধ্যবর্তী ২১টি চরের ৬টিতেই নেই সাইক্লোন শেল্টার। ১৫টিতে আছে নামমাত্র ১ থেকে ২টি করে আশ্রয়কেন্দ্র। জেলার ২০ লাখ মানুষের আশ্রয়ের জন্য ৯০০ সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে, যাতে আশ্রয় মিলবে মোট জনসংখ্যার চারভাগের একভাগ। বাকী তিনভাগ থেকে যাচ্ছে অরক্ষিত। তাই বড় ধরনের ক্ষতির আগেই এসব মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রের আওতায় আনার দাবি সংশ্লিষ্টদের।

প্রতিবছরের মতো এবারও দুর্যোগ মৌসুম শুরু হয়েছে। কিন্তু অনেক চরবাসীর কাছে ঘূর্ণিঝড় মানেই আতঙ্ক, আর জলোচ্ছ্বাস মানেই অনিশ্চয়তা।

দৌলতখান মদনপুর ইউনিয়নের চরমুন্সি গ্রামে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষের বসবাস, রয়েছে কয়েক হাজার গরু-মহিষও। অথচ প্রাকৃতিক দুর্যোগে আশ্রয় নেবার মতো নেই কোনো সাইক্লোন শেল্টার।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ঢালচর, পূর্ব ঢালচর, চর লাদেন, চর লক্ষ্মী, হাজিপুর, চর সামসুদ্দিন, কাজিরচর, চর সুলতানি এবং চর কচুয়াখালীতে নেই আশ্রয়কেন্দ্র। এসব চরে বসবাস করেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।

২১টি চরের বেশিরভাগেই রয়েছে মাত্র এক বা দুটি আশ্রয়কেন্দ্র। বড় ক্ষয়-ক্ষতির আগেই সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে আনার দাবি ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের।

আরও পড়ুন

চরের বাসিন্দারা জানান, ঘূর্ণিঝড়ের সময় যাওয়ার মতো তেমন কোনো জায়গা নেই। তাছাড়া আশ্রয়কেন্দ্র অনেকে দূরে।

ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের আশ্রয় কেন্দ্রের আওতায় আনতে প্রকল্প গ্রহণের কথা জানান জেলা প্রশাসক। আর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের।

ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বলেন, ‘চরাঞ্চলগুলিতে সাইক্লোন শেল্টার নেই, সেগুলাতে আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পত্র দিব। যাতে করে ওই অঞ্চলগুলাতে সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হয়। কারণ এটা একটা বেসিক বিষয়। কারণ ঢালচরের মতো দুর্গম যে জায়গাগুলো আছে, সেখান থেকে আসলে রেসকিউ করে আনা এটা খুবই ডিফিকাল্ট একটা বিষয়।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালযয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘যদি এরকম কোনো প্রয়োজনীয়তা থাকে, জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাদেরকে চিঠি লিখলে আমরা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করব। আমাদের এরকম আশ্রয়কেন্দ্র আমাদের প্রকল্প রয়েছে, সেই প্রকল্পের আওতায় যদি প্রয়োজন হয় অবশ্যই আমরা ভোলায় এ আয়োজন করব।’

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ভোলার সাত উপজেলায় প্রায় ২০ লাখ মানুষের জন্য রয়েছে ৯১৯টি সাইক্লোন শেল্টার। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা হবে মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ। নিরাপদ আশ্রয়ের বাইরে থেকে যাচ্ছে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ।

জেআর