জলাবদ্ধতার পানি সরতে ধীরগতি; ৩টি ব্রিজ ভাঙলো কুসিক

কুমিল্লা
জলাবদ্ধতার পানি সরাতে কুসিকের উদ্যোগ
এখন জনপদে
1

টানা ভারী বর্ষণে কুমিল্লা নগরজুড়ে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার পানি নিষ্কাশনে কেন ধীরগতি হচ্ছে, তার কারণ অনুসন্ধানে নেমে একাধিক প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করেছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক)। কান্দিখালে অভিযান চালিয়ে দুটি কালভার্ট, একটি ভেঙে পড়া স্টিল ব্রিজ এবং বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের একাধিক পাইপলাইনকে পানি প্রবাহের প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গতকাল (সোমবার, ১৩ জুলাই) বিকেলে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা কান্দিরপাড় থেকে নওগাঁ চৌমুহনী এবং নবাববাড়ি চৌমুহনী থেকে সালাউদ্দিন পর্যন্ত কান্দিখালে অনুসন্ধানী অভিযান পরিচালনা করেন। এই খাল দিয়েই নগরীর পানি গুঙ্গাইজুড়ি খাল হয়ে ডাকাতিয়া নদীতে গিয়ে পড়ে।

অভিযানে দেখা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের সামনে পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্মিত একটি কালভার্ট এবং কুমিল্লা মডার্ন হাসপাতালের দক্ষিণ পাশে থাকা আরেকটি কালভার্ট পানি প্রবাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে। এছাড়া একটি স্টিল ব্রিজ ভেঙে খালের মধ্যে পড়ে থাকায় পানি চলাচল আরও ব্যাহত হচ্ছিলো।

পরে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিষ্কাশন বিভাগের কর্মীরা প্রশাসক ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বুলডোজারের সাহায্যে দুটি কালভার্ট ও ভেঙে পড়া স্টিল ব্রিজ অপসারণ করেন। এতে খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

অন্যদিকে, অভিযানে কান্দিখালের বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত আরও ১৫টি স্টিল ব্রিজ ও কালভার্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থাপনা অপসারণে মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মালিকদের কাছে নোটিশ পাঠানো হবে। নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে স্থাপনাগুলো অপসারণ বা প্রয়োজনীয় উচ্চতায় উন্নীত না করলে সিটি করপোরেশন নিজ উদ্যোগে বুলডোজারের মাধ্যমে সেগুলো ভেঙে অপসারণ করবে।

আরও পড়ুন:

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন বলেন, ‘সোমবার টানা তিন থেকে চার ঘণ্টার ভারী বর্ষণে নগরীর নিচু এলাকা, সড়ক, অলিগলি, বাসাবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জলমগ্ন হয়ে পড়ে। নির্ধারিত সময়ে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এরপর ড্রেন, নালা ও খাল পরিষ্কারের কাজ শুরু হলেও পানি সরতে ধীরগতি দেখা যায়। এর কারণ অনুসন্ধান করতেই কান্দিখালে অভিযান চালানো হয়।’

তিনি বলেন, ‘অভিযানে পাওয়া কালভার্ট ও স্টিল ব্রিজগুলো পানি প্রবাহে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। এছাড়া বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের বিভিন্ন গ্যাস পাইপলাইন খালের ওপর লম্বালম্বিভাবে স্থাপন করা হয়েছে। এসব পাইপলাইনের কারণে ময়লা-আবর্জনা জমে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।’

মোহাম্মদ মামুন আরও জানান, এ বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সমস্যা সৃষ্টি করা পাইপলাইনগুলো অপসারণ অথবা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে স্থায়ীভাবে সচল রাখতে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা পর্যায়ক্রমে অপসারণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে ভারী বর্ষণেও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয়।’

এসএইচ