নাটোরে বাড়ছে মাদকের বিস্তার, উদ্বেগে স্থানীয়রা

নাটোরে বাড়ছে মাদকের বিস্তার
এখন জনপদে
0

নাটোরে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে মাদকের বিস্তার। শহর থেকে গ্রাম-প্রকাশ্যেই চলছে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল নজরদারি ও ধীরগতির অভিযানের সুযোগে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে মাদক কারবারিরা। এতে মাদকে জড়িয়ে পড়ছে তরুণ-যুবকরা, বাড়ছে চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধ। তবে পুলিশ বলছে, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে।

উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত নাটোর। দেশের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এই জেলাকে বলা হয় ‘গেটওয়ে জেলা’। আর এই অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে মহাসড়ক ও আন্তঃজেলা সীমান্তপথে প্রতিনিয়ত প্রবেশ করছে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় অনেকটা প্রকাশ্যেই চলছে মাদক বেচাকেনা। শহর থেকে গ্রাম—হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। ফলে বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা। প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বিক্রির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর প্রতিরোধ চোখে পড়ে না। প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযানের ধীরগতিকে মাদক বিস্তারের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন কেউ কেউ।

স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘এ মাদক যারা ব্যবসায়িক, তাদেরকে না ধরে ক্রেতাদের ধরে পুলিশ। ক্রেতাকে ধইরা খোরের থিকা কিছু টাকা আদায় কইরা ছাইড়া দেয়। তাইলে ওরা ব্যবসায়িক ধরুক, তাইলে তো বাংলাদেশে আর মাদক থাকে না।’

স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও যুবকদের একটি অংশ সহজেই মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকাসক্তদের কারণে বাড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ। স্থানীয়দের দাবি, কোথাও কোথাও মাদকবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম চললেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বড় মাদক কারবারিরা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এটি বর্তমানে খুব বেশি বিস্তার করেছে। যুবসমসাজ মাদকাসক্ত হচ্ছে। প্রতি ঘরে ঘরে মাদকের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন:

অনেকের মতে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং অভিযানের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত জনসমাগম বা ‘মব’ পরিস্থিতির আশঙ্কায় মাঠপর্যায়ে মাদকবিরোধী তৎপরতা কিছুটা কমেছে। সেই সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীরা।

নাটোর সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মাদকসেবীরা একদিক থেকে চাঁদাবাজ, তারপরে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। একই সঙ্গে তারা ধর্ষণের মতো একটি খুব সমাজকে অস্থির করে দেয়ার মতো কাজের সঙ্গে তারা জড়িত। এটিকে লাগাম দেয়া খুব জরুরী। এবং সেই ক্ষেত্রে আমরা লক্ষ্য করছি যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যে তাদের পূর্ণতার যে শক্তি নিয়ে মাঠে নামা, সেটি আমরা দেখছি না।’

তবে পুলিশ বলছে- মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারের অল্প সময়ের মধ্যেই অনেকে জামিনে বেরিয়ে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। এজন্য সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

নাটোর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত মামলা দিচ্ছি, অভিযান হচ্ছে, আসামি গ্রেপ্তার হচ্ছে। কোনো না কোনোভাবে ওরা আবার জামিনে বের হয়ে আসছে। আবার মাদক ব্যবসার সঙ্গে বা মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত হয়ে যাচ্ছে। এই জায়গাগুলোতেও সবাইকেই কাজ করতে হবে।’

সীমান্ত ও মহাসড়ক দিয়ে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো, যৌথ অভিযান জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সচেতন নাগরিক ও সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশা, সমন্বিত উদ্যোগই পারে নাটোরকে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার থেকে রক্ষা করতে।

এফএস