গতকাল (বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই) রাত আনুমানিক সোয়া ১২টার দিকে সাইলো গেট সংলগ্ন জাকির হোসেনের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাদ্দাম সরদার কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার রফারদিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলো গেট এলাকায় ভাসমান অবস্থায় বসবাস করতেন এবং সেখানে লেবার (কুলি) হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, বুধবার সকালে সাদ্দামের অসুস্থতার খবর পেয়ে তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক কুমিল্লা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে আসেন। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। তবে সাদ্দাম চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাকে পুনরায় সাইলো গেট এলাকায় নিয়ে যেতে বলেন।
আরও পড়ুন:
রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তাকে সেখানে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ সাদ্দামের মরদেহে ডান হাতের ঘাড় থেকে কবজি পর্যন্ত ফোলা, কবজির ওপরের অংশে চামড়া উঠে যাওয়া, পেটের দুই পাশে কালচে আঘাতের দাগ এবং দুই পায়ের গোড়ালি থেকে হাঁটু পর্যন্ত একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায়। এছাড়া নিহতের বাবার আচরণও কিছুটা রহস্যজনক ছিলো বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অজ্ঞাত ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা সাদ্দামকে নির্যাতন করে গুরুতর আহত করে থাকতে পারে। এসব আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই মাসুম বিল্লাহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জের সরকারি ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।





