আজ (মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থানরত এসব প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এতে নেতৃত্ব দেন সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান। এসময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমান ও নাজমুন নাহার নাঈম উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানকালে আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মেডিকো হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, লিলি প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হলিসিটি প্রাইভেট হাসপাতাল এবং মা-মনি ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি থাকা রোগীদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা অন্য উপযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতালে অস্ত্রোপচারে আয়েশা আফরিন (১৭) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং প্রতিবেদনে হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার বিষয় উঠে আসে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ।
এসময় হাসপাতালটির নানা অব্যবস্থাপনার সত্যতা পাওয়া যায়। যার মধ্যে অস্ত্রোপচার কক্ষে (ওটি) অব্যবস্থাপনা, অস্ত্রোপচার রোগীদের সিটে মনিটর না থাকা, ৩০ সিটের হাসপাতালের বিধি অনুযায়ী পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স না থাকাসহ নানা অনিয়ম উঠে আসে।
আরও পড়ুন:
পরে হাসপাতালটির অস্ত্রোপচার ও হাসপাতালের সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন সিভিল সার্জন মাহামুদুল হাসান। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক আতিকুল আহসানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।
এছাড়া একই এলাকার অন্য চারটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করেন। সেগুলো লাইসেন্স বিহীন পরিচালনা করার অপরাধে কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
অভিযান শেষে সিভিল সার্জন মাহামুদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেখানে নিয়ম বহির্ভূতভাবে স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম পরিচালিত হবে সরকারি নির্দেশনা মেতাবেক আমরা সেগুলো বন্ধ করে দেবো।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি মানুষ যাতে মানসম্মত স্বাস্থ্য সেবা পায়, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের। সেই লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
এছাড়া আল-জারা হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি-না, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যিনি অস্ত্রোপচার করেছেন তিনি একজন অভিজ্ঞ সার্জন এবং সহকারী অধ্যাপক। এই হাসপাতালে এসে অস্ত্রোপচার করা তার ঠিক হয়নি। তার বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নেবো এবং শোকজ করা হবে।’





