পদ্মার ২৮ পয়েন্টে ভয়াবহ ভাঙন; হুমকিতে বসতবাড়ি-ফসলি জমি

এখন জনপদে
0

কুষ্টিয়ায় পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। পদ্মার ২৮টি পয়েন্টে প্রায় ২১কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি আর বসতবাড়ি। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ভাঙনরোধে এরই মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী উপজেলা দৌলতপুরের মরিচা ইউনিয়নের বোরকাপাড়া, হাটখোলা এলাকায় প্রতিনিয়ত ভাঙছে নদীর তীর। পানি বৃদ্ধিতে আগ্রাসী রূপ নেয়া পদ্মা একের পর এক ভাঙছে ফসলি জমি,বসতবাড়ি। হুমকির মুখে বিভিন্ন স্থাপনাও। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানান, প্রতি বছরই নদী ভাঙছে। ফলে কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই বলে জানান তারা।

ভেড়ামারা উপজেলার ফয়জুল্লাপুর, মসলেমপুর, টিকটিকিপাড়া ও মুন্সিপাড়া এলাকায়ও তীব্র ভাঙনে ভাঙছে কৃষকের স্বপ্ন। পদ্মার তীব্র স্রোতে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে বিপুল ফসলি জমি।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা আরও জানান, আবাদী জমি আছে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বাঁধ দিলে, তারা নিশ্চিন্তায় সঙ্গে বসবাস করতে পারবে।

আগ্রাসী পদ্মার প্রধান শাখা গড়াইও অশান্ত হয়ে উঠেছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সাথে হুমকির মুখে পড়েছে খোকসা শহর রক্ষা বাঁধ। কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াই ঘাট এলাকার অস্থায়ী বাঁধও ধসে গেছে প্রায় ৫০ মিটার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে জেলার ২৮টি পয়েন্টে প্রায় ২১ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে ভাঙন প্রতিরোধে এরই মধ্যে কাজও শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফেলা হচ্ছে জিও ব্যাগ ও টিউব। ভাঙ্গন রোধে অব্যাহত থাকবে এ কার্যক্রম।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, ‘নদীর মরফোলজিক্যাল পরিবর্তন কখন কোন দিকে টার্ন নেয় এটা আসলে বোঝাটাও কষ্টকর। তো সেই হিসেবে যদি নদীর মরফোলজিক্যাল চেঞ্জ হয় এবং কোথাও যদি এরকম ভাঙনের তীব্রতা খুবই তীব্র থেকে তীব্রতর হয়, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

এদিকে ভাঙনকবলিত এলাকায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এটি তীব্র আকার ধারণ করবে। আশ্রয় হারাবে মানুষ। তাই কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি নদী পাড়ের বাসিন্দাদের।

জেআর