এর আগে গেল শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের কাপ্তান বাজার ব্রিজের পূর্ব পাশে কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ কেটে মাটি নিয়ে যাওয়ার এ ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের মাটি কেটে নিয়ে স্থানীয় খন্ডল ব্রিকফিল্ডে বিক্রি করছিল একটি চক্র। রাতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হলে তৎপর হয়ে ওঠে প্রশাসন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর মাটির কাটায় জড়িতরা পালিয়ে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওসি মো. আশ্রাফুল ইসলাম।
গতকাল (রোববার, ৯ আগস্ট) সকালে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মোহাম্মদ ইয়াছিন, পাউবোর পরশুরাম উপজেলার দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফ পৃথকভাবে ঘটনাস্থলে যান।
বেড়িবাঁধের যে অংশ থেকে মাটি কেটে নেয়া হয়েছে, সেটি পরিদর্শন ও পরিমাপ করেন ভূমি অফিসের লোকজন। চর কেটে নেয়ার বিষয়টির সত্যতা মেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ভূমি অফিসের পৃথক তদন্তে।
আরও পড়ুন:
বিষয়টি তদন্তে আসা পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘মাটি পরিবহনের কারণে বেড়িবাঁধের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্বল হয়ে পড়েছে। মাটিকাটা সাথে জড়িতদের পরিচয় বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
এদিকে খন্ডল ব্রিক ফিল্ডের ব্যবস্থাপক মো. ইব্রাহিম জানান, ১০ থেকে ১২ গাড়ি মাটি ব্রিকফিল্ডে নিয়ে আসে। পরে প্রশাসনের বাধায় আর মাটি বিক্রি করতে পারেনি।
কারা মাটি বিক্রি করেছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আর কোনো কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের মাটি কেটে নিয়ে তা অন্যত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম চলছে। যেকোনো সময় কহুয়া নদীতে পানি বাড়তে পারে। এতে বর্ষা মৌসুমে বাঁধটি দুর্বল হয়ে আশপাশের এলাকার মানুষ ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘চর থেকে মাটি কেটে অন্যত্র নেয়ার সত্যতা মিলেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
এ বিষয়ে পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া বলেন, ‘চর থেকে মাটি কাটার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। যারাই জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’





