শেরপুর জেলা কারাগারে হামলা ও কয়েদি পলাতক: ২ বছর পরও নিখোঁজ বিপুল গোলাবারুদ

শেরপুর জেলা কারাগার
এখন জনপদে
0

শেরপুর জেলা কারাগারে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ২ বছর পার হলেও এখনো পলাতক রয়েছে ৩৪৬ জন কয়েদি। এছাড়া উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ১৪৩ রাউন্ড গুলি। সে কারণে নিরাপত্তা ও শঙ্কার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর শেরপুর জেলা কারাগারের মূল ফটক একদল সন্ত্রাসী ভেঙ্গে ফেললে- পালিয়ে যায় ৫১৮ কয়েদি। লুট হয় নয়টি চীনা রাইফেল ও শটগান এবং বিপুল পরিমাণ গুলি।

এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় গ্রেপ্তার করা হয় পলাতক ১৭২ জন আসামী। আর উদ্ধার করা হয় লুট হওয়া রাইফেল ও শটগান।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরেও লুট হওয়া চীনা রাইফেলের ৮৪৪ রাউন্ড গুলি, শটগানের ২৯৯ রাউন্ড এবং লুট হওয়া বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার বা এর কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। হামলায় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে গেলেও, এক কর্মচারীর ল্যাপটপে কারা গোয়েন্দা তথ্যভাণ্ডারের পিডিএফ অক্ষত থাকায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রক্ষা করা সম্ভব হয়।

স্থানীয়রা বলেন, সরকারের কাছে আমাদের আবেদন যেন ৩০০-৩৫০ আসামির মধ্যে অনেকে ধর্ষণের আসামি আছে, মার্ডারের আসামি আছে; তাদের যেন সরকার গ্রেপ্তার করে। আর অনেকগুলা যে গোলাবারুদ হারিয়েছে, এগুলো যেন তাড়াতাড়ি উদ্ধার করে। যে আসামিগুলো পলায়ন করছে তাদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক। সাধারণ নাগরিক হিসেবে এইটা আমাদের চাওয়া।

দুই বছর ধরে কয়েদি পলাতক থাকা এবং বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার না হওয়ার বিষয়টি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার ব্যবস্থাপনার জন্যও উদ্বেগের।

শেরপুর বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সেক্রেটারি আলমগীর কিবরিয়া কামরুল বলেন, জেলখানা থেকে যে আসামিরা পলায়ন করেছে প্রায় ৩৫০ আসামি, এখনও আইনের আওতায় আসে নি। জনস্বার্থে এই গোলাবারুদগুলো রিকভারি করা দরকার এবং পলাতক যে আসামিগুলো আছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

আসামি আর বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার না হওয়ার পেছনে কারও দায়িত্বে অবহেলা, যোগসাজশ বা অন্য কারণ ছিল কি না- তা তদন্ত করে বের করতে হবে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়ায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে মনে করেন এই আইনজীবী।

শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, অনেক আসামি সারেন্ডার দিছে এবং আমাদের পুলিশ প্রশাসন তাদেরকে গ্রেপ্তার করছে, গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসছে। আমরা আশা করি আইনশৃঙ্খলার মাধ্যমে অন্যদের অনতিবিলম্বে বাকি আসামিগুলো গ্রেপ্তার করার ব্যবস্থা করা হবে এবং যে সমস্ত গোলাবারুদ বাইরে আছে এটা উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হবে।

পলাতক বন্দিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া গুলি উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

শেরপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার শাহ্ রফিকুল ইসলাম বলেন, সকল বন্দিকে ধরার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদায় তৎপর আছে এবং প্রায়ই পলাতক আসামিগুলো ধরা পড়ছে। ইতোমধ্যে ধরা আছে ১১৪৩ জন। সেই অস্ত্র, গোলাবারুদ উদ্ধারের জন্য আইনশৃঙ্খলার সকল বাহিনী উদ্ধারের জন্য সদায় তৎপর আছে।

পলাতক বন্দি ও গুলি উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারিসহ পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, বাকি আসামি ও বন্দি এবং গোলাবারুদ উদ্ধারের ক্ষেত্রে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত আছে এবং অভিযান নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। আশা করি খুব শীঘ্রই তাদেরকে আমরা জেলখানায় ফিরিয়ে আনতে পারবো এবং হারিয়ে যাওয়া গোলাবারুদগুলিকে আমরা উদ্ধার করতে পারবো।

ক্ষয়ক্ষতি ও বিভিন্ন মালামাল লুটের ঘটনায় প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় কারা কর্তৃপক্ষ। সংস্কার শেষে ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর কারাগারটি পুনরায় চালু করা হয়।

ইএ