নোয়াখালীমুখী উপকূল এক্সপ্রেস কুমিল্লার রাজাপুর স্টেশন অতিক্রমের সময় বাইরে থেকে জানালার কাঁচ ভেঙে ভেতরে ঢোকে পাথর। সেই পাথরে মাথায় আঘাত পেয়ে যাত্রী মহিউদ্দিন আহত হন। তার মাথার রক্তক্ষরণ বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেন রেল-কর্মীরা। পরে নোয়াখালী পৌঁছে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।
শুধু উপকূল নয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম-লাকসাম-নোয়াখালী ও চাঁদপুর রুটে চলাচলকারী চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এতে পাথরের যাত্রীরা আহতের পাশাপাশি ঘটছে প্রাণহানিও। ফলে যাত্রীদের মাঝে বাড়ছে আতঙ্ক আর উদ্বেগ।
যাত্রীরা বলেন, আমাদের যাতায়াতের সময় তো আমাদের একটা সেফটি কনসার্ন আর কি এটা, ডেফিনেটলি। মানে আর এটা আমি যতদূর দেখছি যে হচ্ছে আপনার এই কক্সবাজার রুটের যে ট্রেনগুলা যায় ওইটাতে বেশি হচ্ছে আর কি।
রেলওয়ে চট্টগ্রামের দাবি, মাত্র পাঁচ মাসে কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ৬২টি ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনায় জখম হয়েছেন জানালার পাশের ব্যক্তিসহ অন্যান্য যাত্রীরা। তবে, একের পর এক পাথর নিক্ষেপের পরও তৎপরতা নেই জিআরপি ও আরএনবির। আটক করা যায়নি কোনো অপরাধীকেও। যাত্রী সুরক্ষায় জড়িতদের আটক ও আইনের আওতায় আনার দাবি যাত্রীদের।
যাত্রীরা জানান, দেখা যায় যে অনেকেই পাথর ছুড়ে মারে, গ্লাস ভেঙে অনেকেই আহত হয়। এই ট্রেনেতে দুই একজন লোক মারাও গেছে। নিরাপদ যানবাহন তো এখন ঝুঁকিতে আছে, কারণ কিছু দুষ্কৃতকারী সবসময় এটাতে বিঘ্ন ঘটাবার জন্য কৌতূহলবশত পাথর নিক্ষেপ করে। প্রচুর আহত হচ্ছে। প্রতিনিয়তই এই ঘটনা ঘটছে। এ এটা তো থামানোর মতন আমরা অনেক চেষ্টা করছি। রেল থেকে আমরা বিভিন্ন মানুষকে সচেতন করতে চাচ্ছি, করেছি এবং করছিও।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত পাঁচ মাসে পাথর নিক্ষেপের ৩৭টি ঘটনা ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম রুটে। আর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ১৯টি, লাকসাম-নোয়াখালীতে ৪টি এবং লাকসাম-চাঁদপুর রুটে ঘটেছে ২টি ঘটনা।
পাথর নিক্ষেপের প্রবণতা বেড়েছে জানিয়ে আরএনবি বলছে, টহলসহ নেয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের বিষয় এড়িয়ে গেছেন ওসি থেকে পুলিশ সুপার সবাই। চেষ্টা করেও এবিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লা লাকসাম থানা আরএনবির ওসি নুর মোহাম্মদ বলেন, আশেপাশে যে স্কুল-কলেজগুলি আছে, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং যারা পথচারী দোকানদার, তাদের লিফলেট দেই এবং নিজেরাও মাইকিং করি এবং সব জায়গায় আমরা আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার তহুরা জান্নাত বলেন, এটা বলাই যাবে না। আমি কিছুই বলতে চাচ্ছি না এ ব্যাপারে এখন। প্রফেশনাল সমস্যা আছে, আমরা এইজন্য বলতে চাচ্ছি না।
এদিকে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা প্রতিহতের চেষ্টা চলছে জানিয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক বলেন, লিফলেটের মাধ্যমে ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরা হচ্ছে। যাত্রী সুরক্ষায় জেলা, উপজেলা প্রশাসন ও এনজিওর সহযোগিতাও নেওয়া হচ্ছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন বলেন, যারা পাথর নিক্ষেপ করতেছে তারা তো রেলের লোক না। তারা বাইরের, কোনো বাচ্চারা খেলার ছলে মারছে, কেউ হয়তো ইনটেনশনালি মারছে। তো আমরা এটাকে সামাজিকভাবে এবং প্রশাসনিকভাবে দুইভাবেই প্রতিহত করার বা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছি।
রেললাইনের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যবহৃত পাথরের আঘাতেই হতাহত হচ্ছেন যাত্রীরা। একের পর এক এসব ঘটনা পরিকল্পিত নাশকতা কি না? তদন্তের পাশাপাশি হামলা প্রতিরোধ ও যাত্রী সুরক্ষা নিশ্চিতে জিআরপি, আরএনবিসহ রেল প্রশাসনকে আরও তৎপর হওয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।





