রাজশাহীতে অপরিকল্পিত নগরায়নের চাপ, বাড়াচ্ছে ঝুঁকি

রাজশাহী নগরী
এখন জনপদে
0

পরিকল্পিত ও সবুজ নগরী হিসেবে পরিচিত রাজশাহীতে বাড়ছে অপরিকল্পিত নগরায়নের চাপ। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠছে অনেক বহুতল ভবন। এতে যেমন বেড়েছে নিরাপত্তা শঙ্কা, অন্যদিকে বেড়েছে অগ্নিঝুঁকি। ভবন নির্মাতাদের বিল্ডিং কোড লঙ্ঘনে উদ্বেগ বাড়ছে নাগরিকদের। যদিও বাসযোগ্য শহরের সুনাম বজায় রাখতে, লোকবল বাড়িয়ে নিয়মিত তদারকিতে গুরুত্ব দিচ্ছে রাজশাহী উন্নয়ন কতৃর্পক্ষ।

ফুলে ফুলে শোভিত নগরের পিচ পাথরের পথঘাট। চওড়া এসব সড়কের গুণে, রাজশাহীতে বেড়েছে নগরায়ন। উপশহর, পদ্মা, চন্দ্রীমা, বনলতার মতো সুসজ্জিত আবাসিক এলাকাকে পেছনে ফেলে বাড়ছে নতুন নতুন আবাসন প্রকল্প।

আরডিএর তথ্য বলছে গেলো দু’দশকে গতি পেয়েছে ভবন নির্মাণ কার্যক্রম। প্রভাবশালিরা নানা সুবিধা নিয়ে যত্রতত্র গড়েছেন সু-উচ্চভবন। এতে এক সময়ের সুসজ্জিত নগর এখন রূপ নিচ্ছে ইট-কাঠের জঞ্জালে।

রাজশাহী উন্নয়ন কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘মানুষ বা আইনকে ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে দালান করার চেষ্টা করা হচ্ছে— এরকম অনেক অভিযোগ আসছে।’

২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর নগরীর মাষ্টার পাড়ায়, ১১ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এক ভবন হেলে আছে অপরটির ওপরে। উচ্চতা বিধি না মানায় জিরো পয়েন্টের বাণিজ্যিক ভবন, এস.এস টাওয়ার পড়েছে মামলা জটিলতায়, ফায়ার সার্ভিসের ছাড় পত্র না থাকায় মামলা চলছে উপশহর নিউমার্কেটের এই ভবনটি ঘিরে। এছাড়া নগরজুড়ে পাড়া মহল্লায় বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণ নিয়ে আছে নাগরিকদের বহু অভিযোগ।

এক ভুক্তভোগী জানান, আরডিএ যে পরিকল্পনা দিচ্ছে, সেই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে, তার কোনো তদারকি নেই। তবে নাগরিক অধিকারগুলো যাতে সঠিকভাবে আদায় করা যায়, সেই প্রত্যাশা করেন তিনি।

স্থানীয় এক ব্যক্তির ভাষ্যে— যদি এভাবেই বহুতল ভবনগুলো গড়ে ওঠে, তাহলে নগরের বর্জ্য ও বায়ু দূষণ বেড়ে যাবে। এছাড়া নদী, খাল বা পুকুরগুলো ভরাট করার ফলে বিভিন্ন দুর্ঘটনা সামনে ঘটতে পারেন বলে মনে করেন তিনি।

আরডিএর তথ্যমতে, রাজশাহীতে বহুতল ভবনের সংখ্যা ৪ শতাধিক। আর ফায়ার সার্ভিস বলছে, এসব ভবনে মালিকরা নিজে বসবাস না করায়, ভবন নির্মাণে মানছেন না অগ্নিনির্বাপন বা পরিবেশের বিধিবিধান। ফায়ার সার্ভিসের হিসেব অনুযায়ী, সাড়ে ৭০০ ভবন আছে আগুনের ঝুঁকিতে।

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমাদের একমাত্র ছাড়পত্র আসে, অধিদপ্তর থেকে, ঢাকা থেকে। আমরা এখানে পরিদর্শন করে রিপোর্ট পাঠাই। মহাপরিচালক মহোদয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অগ্নিনিরাপত্তার ঝুঁকি এবং জননিরাপত্তার বিষয় নিশ্চিত করে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়।’

তবে রাজশাহীর বাসযোগ্যতা নিশ্চিতে, নিয়ম বর্হিভূত ভবন নিয়ে তদারকি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সামর্থ বাড়াতে, লোকবল বাড়ানো হবে বলে জানান রাজশাহী উন্নয়ন কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘সরেজমিনে আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। কিছু ক্ষেত্রে দেখতে পাচ্ছি, অভিযোগের সত্যতা আছে। সেক্ষেত্রে আমাদের ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে বা তাদের আইনের মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।’

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওয়াতাধীন এলাকায় ভবন নির্মাণের অনুমতি না নেয়ায়, গেল এক বছরে ২৬১ জন ভবন মালিককে, শো-কজ ও মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এসএইচ