আয়েশা বেগম স্বামীকে হারিয়েছেন ১১ বছর আগে। স্বামীর মৃত্যুর কয়েক মাস পরই স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েন। এখন ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না। সংসারে এক ছেলে। আয়-রোজগারেরও তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই ঘরের বারান্দায় ছোট্ট একটি দোকান দিয়েই কোনোরকমে সংসার চালাচ্ছেন তিনি।
দিয়াবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আয়েশা বেগম বলেন, আমার নাম আয়েশা। স্ট্রোক করে পা অকেজো হয়ে গেছে। কোনোরকম প্রতিবন্ধী ভাতায় চলছি।
শুধু আয়েশা নন, একই চিত্র দিয়াবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রায় প্রতিটি ঘরে। মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার এই আশ্রয়ণ প্রকল্পটি গড়ে তোলা হয় প্রায় ২৫ বছর আগে। ভূমিহীন, বিধবা ও অসহায় মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে এখানে ঘর দেওয়া হয় ১০০টি পরিবারকে।
কিন্তু দীর্ঘ ২৫ বছরেও হয়নি বড় ধরনের কোনো সংস্কার। সময়ের সঙ্গে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে ঘরগুলো। কোথাও ভেঙে গেছে বেড়া, কোথাও দরজা-জানালা। সামান্য বৃষ্টিতেই চাল চুইয়ে ঘরের ভেতরে পড়ে পানি। ঘরের পাশাপাশি দুর্ভোগ রয়েছে প্রকল্পের অন্যান্য অবকাঠামোতেও। দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর গোসলখানা, টয়লেট ও টিউবওয়েল। ফলে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিয়েও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
অভিযোগের পর অভিযোগ, আশ্বাসও মিলেছে একাধিকবার। তবে বাস্তবে হয়নি সংস্কারের কাজ। আশ্রয়ণ প্রকল্পের এই দুরবস্থার কথা জানার পর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, কোনো চাহিদা থাকলে তারা যথাযথ মাধ্যমে আবেদন করতে পারে। আমরা চাই যে যথাযথ পর্যালোচনার মাধ্যমে সঠিক ব্যক্তির হাতে আমরা সাহায্যটি তুলে দিতে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, এবার শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেবে কর্তৃপক্ষ। তাহলেই হয়তো আয়েশার মতো শত পরিবারের মাথার ওপরের এই জরাজীর্ণ ছাদ আবার হয়ে উঠবে নিরাপদ আশ্রয়।





