ওডিশা উপকূলে জাহাজডুবিতে সাতক্ষীরার মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মামুন নিখোঁজ

সাতক্ষীরা
নিখোঁজ মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মামুন
এখন জনপদে
0

ভারতের ওডিশা উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন সাতক্ষীরার মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। গত শনিবার (২২ আগস্ট) জাহাজডুবির পর ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান চালালেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করছেন একটি ভালো খবরের আশায়।

নিখোঁজ আবদুল্লাহ আল মামুনের বাড়ি সাতক্ষীরা শহরের উত্তর কাটিয়া আমতলা এলাকায়। তার বাবা ডা. আব্দুর রহিম। গত এপ্রিলের শেষ দিকে পানামার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘এমভি ওশান উইনার’-এ মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন তিনি।

পারাদ্বীপ বন্দর থেকে লৌহ আকরিক নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়া জাহাজটি শনিবার বন্দর থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ডুবে যায়। জাহাজটিতে ২৪ জন ক্রু ছিলেন। তাদের মধ্যে ২০ জন চীনের, তিনজন মিয়ানমারের এবং একজন বাংলাদেশের নাগরিক। জাহাজডুবির পর এখন পর্যন্ত দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

মামুনের বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল বাকি বলেন, ‘এখনো কোনো দিক থেকে কোনো আপডেট পাচ্ছি না। ইন্ডিয়ান কোস্টগার্ডের পেজে কখন আপডেট হয়, তারা কোনো ব্রিফিং করে কি না, সেটার জন্য অপেক্ষা করছি।’

তিনি জানান, শনিবার দুপুরের দিকে পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাঁরা প্রথম জাহাজডুবির খবর জানতে পারেন। এরপর মামুনকে জাহাজে পাঠানো বিদেশি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তারাও এখন পর্যন্ত মামুনের অবস্থান সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি।

মামুনের বড় ভাই আরও বলেন, ‘আমার আম্মুর আগে থেকেই হার্টের সমস্যা আছে, আব্বুরও বয়স হয়েছে। মামুনের ঘটনা জানার পর থেকে পরিবারের সবাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। মামুনের স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বারবার। সঠিক কোনো তথ্য জানতে পারছি না।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে ভারতের সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পায়। পরে কাছাকাছি থাকা বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমটি আইসোপোস’কে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। রাত আটটার দিকে জাহাজটি দুজনকে জীবিত উদ্ধার করে।

পরে নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে ভারতীয় কোস্টগার্ডের ‘বরদ’ ও ‘আনমোল’ নামের দুটি টহল জাহাজ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে ‘বিজিত’ নামের আরেকটি টহল জাহাজও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত হয়। ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে এখনো নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধান চলছে।

পরিবারের সদস্যরা বলছেন, মামুনের সঙ্গে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে কথা হয়েছিল। এরপর থেকেই তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এএইচ