আজ (সোমবার, ২৪ আগস্ট) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে সিপিডি আয়োজিত ‘সরকারের ছয় মাস: পারফরম্যান্স পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ডায়ালগে এসব তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
সিপিডির পর্যালোচনায় বলা হয়, সরকার দায়িত্ব নেয়ার ছয় মাস পরও অর্থনীতি কাঙ্ক্ষিত গতিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, তারল্য সংকট ও বাজারের অস্থিরতাও পুরোপুরি কাটেনি।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রধান প্রত্যাশা ছিল অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু ছয় মাসের মূল্যায়নে এ দুই ক্ষেত্রেই আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং দুই ক্ষেত্রেই অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আগের সরকারের কাছ থেকে বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। টাকা সংকট, দুর্বল ব্যাংকিং খাত, খেলাপি ঋণ, অর্থপাচার ও রাজস্ব ঘাটতির মতো বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে এসব সামলে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে আশানুরূপ গতি দেখা যায়নি।’
সুশাসনের বিষয়ে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সিন্ডিকেট ও ‘মব কালচার’ বন্ধের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তব চিত্র সন্তোষজনক নয়।’
মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের কথা বলা হলেও রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচ্চপদে পদায়নের অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণার পরও মব সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। নারী, শিশু ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিরুদ্ধেও দৃশ্যমান কার্যকর প্রতিরোধ দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রণীত আইন নিয়েও প্রশ্ন তুলে দেবপ্রিয় বলেন, ‘এতে নানা ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা রয়েছে। আইন ভঙ্গের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দিয়েই অনুসন্ধান করানোর সুযোগ থাকায় স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে।’
সরকার দায়িত্ব নেয়ার সময় কী ধরনের সংকটের মুখে পড়েছিল, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত দলিল তৈরি করা হয়নি বলেও জানান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ফলে সরকারের বক্তব্যে সংকটের কথা থাকলেও তার তথ্যভিত্তিক পরিসংখ্যান পাওয়া যাচ্ছে না।
তবে সরকারের কয়েকটি পদক্ষেপের প্রশংসা করেন তিনি। এর মধ্যে এমপিদের গাড়ি ও প্লট না নেয়ার সিদ্ধান্ত, রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর বিষয় উল্লেখ করেন তিনি।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘অর্থনীতিকে দ্রুত সচল করতে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এজন্য সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ এবং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।’





