নারায়ণগঞ্জে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন; ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শো-কজ

নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন
এখন জনপদে
1

নারায়ণগঞ্জের ভূমি অফিসগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। এসময় অফিসগুলোতে নির্ধারিত সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিত না থাকা এবং অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের অভিযোগ ওঠে।

আজ (সোমবার, ৩১ আগস্ট) সকালে আকস্মিক পরিদর্শনে এমন চিত্র উঠে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

এ ঘটনায় বিকেলে তিনটি ভূমি সার্কেল অফিসের ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে বলে জানান নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতির সময় যাচাই করা হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুর এলাকায় সদর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ সার্কেলের ভূমি কমিশনারের কার্যালয় পরিদর্শনে যান প্রতিমন্ত্রী। এসময় দু’টি কার্যালয়ে নির্ধারিত সময়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পাওয়া যায়নি। তবে তাদের অনেকের নামের পাশে হাজিরা খাতায় আগেই স্বাক্ষর করা ছিলো। বিষয়টি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

অনিয়মের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এসব ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে শুধু শাস্তি দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানসিকতারও পরিবর্তন জরুরি।’

এদিকে পরিদর্শনে পাওয়া অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। তিনি বলেন, ‘অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না থেকেও যাদের হাজিরা খাতায় উপস্থিতি পাওয়া গেছে, তাদের প্রত্যেকের কাছে প্রথমে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।’

জেলা প্রশাসক জানান, এরই মধ্যে তিনটি ভূমি কমিশনারের কার্যালয়ের ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে আরও কয়েকজনকে নোটিশ দেয়া হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘নোটিশের জবাব পাওয়ার পর সেগুলো যাচাই করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট তিনটি অফিসের সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করা হবে। এতে কে কখন অফিসে প্রবেশ করেছেন এবং কখন হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন, তা যাচাই করা সম্ভব হবে।’

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টার মধ্যে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার বিধান রয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘যথাযথ কারণ ছাড়া এ নির্দেশনা অমান্য করলে তা অসদাচরণের আওতায় পড়তে পারে।’

তবে সরকারি অনুষ্ঠান, দাপ্তরিক দায়িত্ব কিংবা অন্য কোনো অনুমোদিত কাজে থাকার কারণে কেউ নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হতে না পারলে তার ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণের মাধ্যমে অনুপস্থিতির যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। অন্যথায় সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জের ভূমি অফিসগুলোতে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এসব অভিযোগের কার্যকর প্রতিকার না হওয়ায় সেবা নিতে আসা মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

সোমবারের আকস্মিক পরিদর্শনকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবাপ্রার্থীরা। তারা ভূমি অফিসগুলোতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করে অনিয়ম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

এসএইচ