উপকূলীয় জেলায় প্রায় ১২ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসাস্থল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু আবহাওয়া পরিবর্তন ও হামের ভয়াবহ প্রকোপে হাসপাতালটিতে এখন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে শিশু রোগীর সংখ্যা। ৫০ শয্যার ওয়ার্ডে প্রতিদিন ১২০ জনেরও বেশি শিশু গাদাগাদি করে মেঝতে চিকিৎসা নিচ্ছে। অথচ এ হাসপাতালটিতে বর্তমানে নেই কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
রোগীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘ডাক্তার একজন নাই, ওই একবার দেখায় হ্যার পর তো আর দেখা হয় না। আবার হ্যার পরদিন ১০টা-১১টা বাজে একবার আয়।’
অন্য একজন বলেন, ‘একজন ডাক্তার, কালকে একবার আসছে, আজকে একবার আসছে।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই একমাত্র শিশু বিশেষজ্ঞ মেহেদী পারভেজ পদোন্নতি ও বদলি হওয়ায় পদটি এখন ফাঁকা। এমনকি নবজাতকদের বিশেষ চিকিৎসা ইউনিট ‘স্ক্যানু’তেও নেই কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। মাত্র একজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে কোনমতে চলছে শিশু ওয়ার্ড। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাব এবং অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে প্রতিদিন হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন:
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. শায়লা আক্তার বলেন, ‘জনবল সংকটটা এখন এতটাই তীব্র হয়ে গেছে যে, এই ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এখানে শিশুর একজন কনসালটেন্ট নাই। আমি বায়োপোস্ট মেডিকেল অফিসার, কিন্তু প্রতিদিন এতগুলো রোগী আমারই একারই দেখা লাগতেছে। এটা আসলে খুবই মানে অবর্ণনীয় কষ্ট হয়ে যায়। প্রতিদিন এতগুলো রোগী দেখা আসলে একজন মানুষের পক্ষে খুবই কষ্টকর।’
২০১০ সালে হাসপাতালটি ১০০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও অনুমোদিত চিকিৎসক ৮৩টি পদের মধ্যে আছেন মাত্র ১৫ জন। গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি কিংবা অ্যানেস্থেসিয়ার মতো বিভাগগুলো প্রায় ডাক্তারশূন্য। ফলে সামান্য জটিলতায় শিশুদের পাঠানো হচ্ছে বরিশাল কিংবা ঢাকায়। এতে ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে শিশুরা।
অসুস্থ এক শিশুর মা বলেন, ‘বাচ্চা অসুস্থ অই পড়লে কারে দেখাব? বাহিরে যাইতে গেলে ৭০০-৮০০ টাকা ভিজিট লাগে। এজন্য বাইরে যাইতে পারি না। এই জায়গায় ওই বেশি অসুস্থ অই পড়ে। তারপরে রেফার করে বরিশাল যান।’
অন্য একজন বলেন, ‘এখন দেয়া যায় যেন সকাল ১০টায় রোগী দেইখ্যা গেছে, ১২টায় রোগী অসুস্থ অই পড়ছে। এখন যে বাইরে কোনোহানে যাই দেখাবার আমাগো সুযোগ নাই। গরীব মানুষ, ৭০০-৮০০ টাকা ভিজিট দিয়ে দেখাইতেও পারবে না।’
রোগী ও স্বজনদের এমন ভোগান্তির কথা স্বীকার করে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দেয়া হচ্ছে।
বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, ‘আমি এবং ডিসি মহোদয় দুইজনই আমাদের সম্মিলিত একটা চিঠির মাধ্যমে আমরা অন্তত দুইজন শিশু বিশেষজ্ঞসহ পাঁচজন চিকিৎসক আমরা চাহিদাপত্র দিয়েছি। আশা করছি যে এই শিশু বিশেষজ্ঞ অতিসত্বরই এখানে আসবেন।’
কাগজে-কলমে ২৫০ শয্যা হলেও বাস্তবে স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত বরগুনার বাসিন্দারা। দ্রুত সময়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞসহ অন্যান্য চিকিৎসক পদায়নের দাবি জেলাবাসীর।





