নিরাপত্তা জোরদারে নওগাঁ শহরে এআই ক্যামেরা স্থাপন

নওগাঁ শহরে এআই ক্যামেরা স্থাপন ও কার্যক্রম উদ্বোধন
এখন জনপদে
0

অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদারে নওগাঁ শহরের এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘এআই কানেক্টেড ডিজিটাল সার্ভিলেন্স অ্যান্ড সাইবার ল্যাব’ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ (শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নওগাঁ জেলা পুলিশের আয়োজনে পুলিশ সুপার কার্যালয় চত্বরে এ বিষয়ে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু।

নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন- রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাঈদ।

এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মনিরুল ইসলামসহ অন্যরা।

এসময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন ও সাবেক সদস্য সচিব বায়েজিদ হোসেন পলাশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সুধীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনার আগে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ‘এআই কানেক্টেড ডিজিটাল সার্ভিলেন্স অ্যান্ড সাইবার ল্যাব’ উদ্বোধন করা হয়। শহরকে নিরাপদ শহর গড়ে তুলতে বিভিন্ন স্থানে ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পৌরসভা এলাকায় এআই ক্যামেরা স্থাপন করে নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’ আগামীতে পুরো জেলাকে নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া কোন কোন এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে সবাইকে সে বিষয়ে অবগত করা প্রয়োজন। সর্বোপরি এআই ক্যামেরা স্থাপন করায় নিরাপত্তা বলয় গড়ে উঠেছে।

রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাঈদ বলেন, ‘৫ আগস্টের পর পুলিশের ভাবমূর্তি তলানিতে ছিলো। আমরা মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে পেরেছি। আমরা সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে হয়ত কিছুটা পিছিয়ে রয়েছি। কাঙ্ক্ষিত সেবা আমরা দিতে পারছি না আমাদের আচরণগত ও লজিস্টিক সহ বিভিন্ন স্বল্পতার কারণে। তারপরও মানুষকে অন্তত ভাল আচরণ দিয়ে সেবা দিতে পারছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক থাকলে সবকিছুই ঠিক থাকবে।’

ডিআইজি আরো বলেন, ‘মাদক একটি পরিবারকে ধ্বংস করে। মাদক সারাদেশে মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকার মাদককে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। পুলিশের কোনো সদস্য যদি জড়িত থাকে তাকেও আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসতে চাই। এছাড়া মাদকের গডফাদারকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে চাই।’

ইভটিজিং বিষয়ে ডিআইজি বলেন, ‘বর্তমানে ইভটিজিং জঘন্যতম অবস্থানে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের উত্যক্ত করা হচ্ছে এবং আত্মহননের মতো ঘটনা ঘটছে।’

স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানের আশপাশে পুলিশি টহল বাড়ানো নির্দেশনা দেন তিনি। এছাড়া ইভটিজিং প্রতিরোধে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু বলেন, ‘অপরাধীর কৌশল পরিবর্তন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কৌশলও পরিবর্তন করতে হয়েছে। এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। অপরাধীর দৌরাত্ম্য অনেকাংশে কমে যাবে।’ মানুষ যেন পুলিশের কাছে গিয়ে সেবা পায় সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

এএইচ