খুলনা মেডিকেলে ডেঙ্গু রোগীর ভোগান্তি; শয্যা পেতে টাকা দেয়ার অভিযোগ

হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী
স্বাস্থ্য
এখন জনপদে
0

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন রোগীরা। অথচ অভিযোগ—সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার বদলে মিলছে ভোগান্তি, বাড়তি খরচ আর শয্যার জন্য হয়রানি। কেউ মেঝেতে পড়ে থাকছেন, কেউ আবার অভিযোগ করছেন—টাকা দিলেই মিলছে শয্যা। অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এবার সাংবাদিকদেরও পড়তে হয়েছে বাধার মুখে।

পিরোজপুরের গৃহবধূ নীলা। ডেঙ্গু আক্রান্ত স্বামীকে নিয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর আসেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরদিন হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে ডেঙ্গু পরীক্ষা করান। অভিযোগ, রিপোর্ট হাতে পাওয়ার আগেই কর্তব্যরত এক চিকিৎসক ধরিয়ে দেন একটি বেসরকারি ক্লিনিকের স্লিপ। সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করিয়েও কেন ফের বেসরকারি ক্লিনিকে? উত্তর না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাড়তি টাকা খরচ করে সেখানেই স্বামীর পরীক্ষা করাতে হয় নীলাকে।

ভুক্তভোগী নীলা বলেন, ‘প্রথম রিপোর্ট করতে দিয়েছে, এ জায়গায় টাকা নিছে ৫৮০ টাকা। কিন্তু বলতেছে এ রিপোর্টে কোনো কাজ হবে না, আবার বাইর থেকে পরীক্ষা করানো হয়েছে। ফলে বাইর থেকে করছি আমরা।’

এ অভিযোগের সূত্র ধরেই সোমবার সকালে খোঁজ নেয়া হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট-২-এ। কিন্তু তথ্য সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেন সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাবিবুর রহমানসহ কয়েকজন চিকিৎসক। একপর্যায়ে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয় পরিচালকের কক্ষে।

আরও পড়ুন

পরিচালকের সামনেই সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন উপস্থিত অন্যান্য চিকিৎসকরা। দেয়া হয় হুমকিও। রোগীর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।

এদিকে ডেঙ্গু রোগীর চাপও বাড়ছে দিন দিন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন জেলায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিন শতাধিক রোগী। বর্তমানে খুলনা মেডিকেলসহ বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫৭৩ জন। খুলনা মেডিকেলের ডেঙ্গু ইউনিটে শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকেই থাকতে হচ্ছে ওয়ার্ডের মেঝেতে। আর স্বজনদের অভিযোগ—নার্সদের সময়মতো না পেয়ে কখনো কখনো তারাই রোগীকে ইনজেকশন কিংবা স্যালাইন দেয়ার দায়িত্ব নিচ্ছেন। রোগীর স্বজনদের দাবি, ওয়ার্ডবয়দের ২০০ টাকা দিলে সহজেই মেলে শয্যা। রয়েছে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম না পাওয়ার অভিযোগও।

রোগীর স্বজনরা জানান, টাকা দেয়া হলে এখানে সব কিছু পাওয়া যায় বলেন তারা।

চলতি বছরে খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭ হাজার। খুলনা মেডিকেলে ১৮ জনসহ বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি না হলে—এর মূল্য দিতে হবে সাধারণ রোগীদেরই।

জেআর