তৃতীয় দফায় খোলা হলো কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

কাপ্তাই হ্রদ
এখন জনপদে
0

কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তৃতীয় দফায় দেশের একমাত্র কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধের ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টি আর উজানের ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর বিপৎসীমায় পৌঁছে যাওয়ায় আজ (শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর) সকালে খুলে দেয়া হয়। এর আগে এরকম পরিস্থিতিতে চলতি বছর গত ১৮ জুলাই ও ২৯ আগস্ট ১৬টি জলকপাট খুলে দেয়া হয়।

এতে বাঁধের ভাটি অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্কতা দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী তীরবর্তী চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানের আশেপাশের নিম্নাঞ্চলগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের সতর্কও করা হয়েছে।

এদিকে পানি বাড়ায় আজ বিকালে রাঙামাটি পর্যটন ঝুলন্ত সেতুর পাটাতন প্রায় চার ইঞ্চি ডুবে গেছে। নিরাপত্তার শঙ্কায় পর্যটকদের সেতু ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানিয়েছেন, টিকিট কাউন্টারের বাণিজ্যিক কার্যক্রমও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক পর্যটককে সেতু ভ্রমণে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে।

কাপ্তাই লেকের পানির ধারণ ক্ষমতা ১০৯ ফুট। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে লেকের পানি ধারণক্ষমতা ১০৮ ফুট। অর্থাৎ বিপৎসীমা ১০৮ ফুট ধরা হয়। তবে ১০৫ ফুটের বেশি হলেই জলকপাট খুলে পানি নিষ্কাশন করে পানির উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সর্বশেষ আজ রাত সাড়ে ৭টায় পানির উচ্চতা পরিমাপ করা হয় ১০৫ দশমিক ৬১ ফুট।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, বাঁধের উজান অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং ভাটি অঞ্চলে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে বৃষ্টিপাত, লেকের পানির উচ্চতা এবং উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ (ইনফ্লো) অনুযায়ী গেট খোলার সময় ও পানির পরিমাণ পরিবর্তন হতে পারে। প্রয়োজনে পর্যায়ক্রমে আরও বেশি গেট খুলে পানি ছাড়া হবে।

জেআর