চিকিৎসক-জনবল-ওষুধ সংকটে বেহাল বরিশালের স্বাস্থ্যখাত

শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগ
স্বাস্থ্য
এখন জনপদে
0

বেহাল বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্যখাত। ধুঁকছে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, জনবল, ওষুধসহ নানা সংকটে। দিন দিন বাড়ছে এই অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি। দীর্ঘদিনের এই সংকট দূর করে বরিশালের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করার দাবি বরিশালবাসীর। সংকট নিরসনে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।

স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও বরিশাল বিভাগে স্বাস্থ্যখাতে হয়নি আশানুরূপ উন্নতি। স্বাস্থ্যসেবার প্রকৃত সুফল থেকে দক্ষিণের জনপদের মানুষ আজও বঞ্চিত।

বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বড় শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। বয়সের ভারে নিজেরই এখন রুগ্ন দশা। প্রতিদিন চিকিৎসা সেবা নিতে ১ হাজার শয্যার বিপরীতে ভর্তি থাকছে আড়াই হাজারের অধিক রোগী। শয্যা সংকটে অনেকেই চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে মেঝেতে।

রোগীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘যেকোনো টেস্টের ব্যাপারে গেলে সরকারি যে টেস্টগুলো আছে, কোনো টেস্টগুলো আমরা পাই না।’

অন্য একজন বলেন, ‘সরকারের এখানে আসি যাতে আমাদের কিছু টাকা সাশ্রয় হয়। সেই সাশ্রয়টা যদি আমরা যদি এখানে এসে না পারি, আমার এ পর্যন্ত প্রায় আমার ২০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়ে গেছে শুধু মেডিসিনে।’

নতুন ভবনের তিনটি লিফটের দু’টিই অচল। একটি লিফট দিয়ে রোগীসহ সবার চলাচল। কম খরচে ভালো চিকিৎসা সেবা নিতে এসে বাড়তি ভোগান্তি হচ্ছে বলেও অভিযোগ সেবাগ্রহীতাদের।

রোগীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘শুয়ে শুয়ে শুয়ে আমাদের জ্বর হইছে, ভাইরাসের জ্বর। কিন্তু আমাদের বেড পাইতেছি না। সেই কারণে আমাকে এখানে রাখছে।’

অন্য একজন বলেন, ‘টয়লেট, লিফটের ভোগান্তি, লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি থেকে স্যার আমাদের মুক্তি দেন।’

আরও পড়ুন:

বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি এক হাজার শয্যায় উন্নতি হলেও চাহিদার অর্ধেকের কম চিকিৎসক দিয়ে বছরের পর বছর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা।

শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. মো. মাজহারুল রেজোয়ান বলেন, ‘চিকিৎসক সংকট তো অবশ্যই রয়েছে। ৫০০ জনের হিসেবে চিকিৎসক যেটা ছিল, তারও প্রায় ৫০ শতাংশ পোস্ট খালি।

অপরদিকে বরিশাল সদর হাসপাতালে ১০০ শয্যার বিপরীতে ভর্তি থাকছে দ্বিগুণ রোগী। বহির্বিভাগে প্রতিদিন রোগী হাজারের অধিক। ৬২ জন চিকিৎসকের স্থলে রয়েছে মাত্র ২৬ জন। এসব সংকট দূর করা গেলে স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি করা সম্ভব বলে মনে করেন এই চিকিৎসক।

বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, ‘যে চিকিৎসক পদ আছে সেখানে এখনও কিছু শূন্য পদ রয়েছে। সেগুলো যদি তাড়াতাড়ি পূর্ণ হয়ে যায়, আশা করি আমাদের সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।’

হাসপাতালগুলোতে জনবলসহ নানা সংকটের কথা স্বীকার করে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক জানান, সংকট দূরীকরণে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ চলমান রয়েছে।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দার বলেন, ‘আমরা এসব বিষয়গুলো আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যারা রয়েছেন তাদেরকে প্রপার মাধ্যমে আমরা জানিয়েছি। তা আশা করি অতি শিগগিরই আমাদের এই সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যাবে।’

এইসব সংকট নিরসনে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, জনবল বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এসএস