বাব এল মান্দেব ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা, জড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

বাব এল-মান্দেব ও হরমুজ প্রণালি
বিদেশে এখন
0

বাব এল মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরব ও হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাতে এবার সামরিকভাবেই জড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকরা বলছেন, লোহিত সাগরকে বেশিদিন উপেক্ষা করা ট্রাম্পের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। তবে হুথিদের রুখতে প্রয়োজন কূটনৈতিক সামরিক জোট। এদিকে, হামাস-হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়ে গেলেও সহজে টলানো যাচ্ছে না ইয়েমেনি বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে। বাস্তাবতা বলছে, হরমুজের পর ইরানের বড় ট্রাম্প কার্ড এখন ‘প্রক্সি নেটওয়ার্ক হুথি’। আর, কাগুজে বুলির তকমা পাচ্ছে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’।

পবিত্র নগরী মক্কায় ড্রোন হামলার কথিত চেষ্টা বিপরীতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অস্বীকৃতি। স্পর্শকাতর এক পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে।

ঘটনার সূত্রপাত গেল সৌদির স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, মক্কার সংরক্ষিত আকাশসীমার দিকে যাওয়া একটি ড্রোন প্রতিহত করেছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পরবর্তীতে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মক্কা অঞ্চলে সতর্ক বার্তাও জারি করে সৌদি সরকার। যদিও এ দাবিকে ‘ডাহা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে পবিত্র নগরীতে হামলার দায় সরাসরি অস্বীকার করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। জানিয়েছে, ধর্মীয় স্থাপনা থেকে অনেক দূরে সৌদি তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিই তাদের লক্ষ্যবস্তু।

স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, মক্কায় কি আসলেই হামলা করেছে হুথিরা? নাকি এই খবর প্রকাশের পেছনে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য আছে সৌদি সরকারের। এর সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলেও একটি বিষয় স্পষ্ট, সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের সঙ্গে হুদিদের বিরোধের শুরু, পরবর্তীতে লোহিত সাগরের বাব এল মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি ফোর্সের সঙ্গে হুদি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দফায় দফায় সংঘর্ষের পরেও রিয়াদের মিত্র ওয়াশিংটনের তেমন বিচলিত নয়। বরং ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেন ইস্যুতে সামরিক হস্তক্ষেপ করুক এমনটা চায় না ইয়েমেনি গোষ্ঠীটি।

আরও পড়ুন

এখন প্রশ্ন ওঠে সৌদি-হুথিদের এ সাম্প্রতিক উত্তেজনার ভবিষ্যৎ কী? বিশ্লেষকরা বলছেন, লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব এল মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্র লোহিত সাগরকে বেশিদিন উপেক্ষা করলে তা ট্রাম্পের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। হরমুজে ইরান আর বাব এল মান্দেবে হুথি- একসঙ্গে দুই বাণিজ্যিক জলপথ অস্থিরতায় ফেলবে ওয়াশিংটন-রিয়াদকে। বিশ্লেষকদের শঙ্কা, সৌদি আরব ও হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাতে এবার সামরিকভাবেই জড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর বিশ্লেষণ, ইয়েমেন ও লোহিত সাগর উপকূলে হুথিদের রুখতে প্রয়োজন কূটনৈতিক সামরিক জোট। অর্থাৎ লোহিত সাগরে সরাসরি সামরিক অভিযানের বদলে ইয়েমেন সরকার ও সৌদিকে কৌশলগত সামরিক সহায়তা দেয়া। যেন সম্মিলিতভাবে হুথিদের কিছুটা ব্যাকফুটে পাঠানো যায়। কারণ দেখা যাচ্ছে, হামাস-হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়ে গেলেও এই বাস্তবতায় সহজে টলানো যাচ্ছে না ইয়েমেনি বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে। হরমুজের পর ইরানের বড় ট্রাম্প কার্ডও এখন ‘প্রক্সি নেটওয়ার্ক হুথি’।

এদিকে, ব্যাপক আলোচিত ত্রিপক্ষীয় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি করে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক বিশ্বমঞ্চে যে ঐক্য, সম্মিলিত প্রতিরোধ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বার্তা দিয়েছিল- সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ভাগ্যে জুটছে কাগুজে বুলির তকমা। কারণ যেখানে সৌদি সরকারের দাবি অনুযায়ী মক্কা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে হুথিদের ঝুঁকি, তখন রিয়াদের পাশে পাওয়া যাচ্ছে না ইসলামাবাদ বা আঙ্কারাকে।

জেআর