সিলেট বিভাগে ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক চা বাগান রয়েছে, যার সিংহভাগই মৌলভীবাজার জেলায়। এবছর চা পাতার ফলন ভালো হলেও গত কয়েক মাস যাবৎ বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শুধু উৎপাদন নয়, বরং পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণের মেশিনের যন্ত্রপাতিতেও পড়েছে বড় ধরনের প্রভাব। এর ফলে চায়ের গুণাগুণ নষ্ট হওয়াসহ নানান আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।
চা বাগানের একজন কারখানা চালক বলেন, ‘অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে তাপের যে ফ্যানগুলা, টাইমিং করে ফ্যান চালাইতে পারি না। যার কারণে অনেকটা লেট... অনেক সময় গরম হইতে হইতে যেটা হয়, জ্বলি যায়।’
মালনীছড়া চা বাগানের এজিএম আজম আলী বলেন, ‘জ্বালানির যে আমাদের যে এখন সংকট, যেমন বিদ্যুৎ এবং গ্যাস—এগুলো ঠিকমতো সাপ্লাই না হওয়ায় আমরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। চা বাগানের ফ্যাক্টরি যেমন ধরুন, আমার বিদ্যুৎ চলতেছে, হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে গেল। আমাদের টোটাল যে অপারেশন যেটা আছে, টোটাল মেশিনারিজ যেটা, সবকিছু একসঙ্গে এলেমেলো হয়ে যায়।’
আরও পড়ুন:
তবে বাগান মালিকরা বলছেন, গত কয়েক বছর থেকেই সিলেটের চা বাগানগুলোতে চলছে নানান অস্থিরতা। বিশেষ করে ধারাবাহিকভাবে চায়ের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিনিয়তই লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। নতুন করে বিদ্যুৎ সংকট আরও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের জন্য। ফলে চা বাগানের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত তারা।
মেক্সান ব্রাদার্স বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক এম এ জামান সোহেল বলেন, ‘বাগান ব্যবস্থাপনায় লেবার ওয়েজেস দেয়া সবচেয়ে জটিল হয়ে যাচ্ছে। কারণ আমি চা বিক্রি করে তো লস হচ্ছে, আমার পোশানো যাচ্ছে না।’
যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর জন্য শুধু সাময়িক সমাধান নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। সরকার এককালীন বা মৌসুমভিত্তিক আর্থিক প্রণোদনাসহ বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করতে পারলেই উত্তরণ মিলতে পারে এই সংকট থেকে।
সিকৃবির ক্রপ বোটানি অ্যান্ড টি প্রোডাকশন টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘সরকার যেভাবে প্রণোদনা দেয়ার চেষ্টা করতেছে সোলার—তবে এক্ষেত্রে একটু ভেবেচিন্তে দেখতে হবে যে, চা বাগানের যে হেভি মেশিনগুলা আছে সেগুলো আসলে সোলারের মাধ্যমে চালানো যাবে কি না। তবে এটা একটা চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে।’
দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা চা শিল্প এখন দাঁড়িয়ে আছে এক কঠিন বাস্তবতার সামনে। বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধান না হলে শুধু বাগান মালিক নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিক থেকে শুরু করে গোটা চা শিল্পের সঙ্গে জড়িত সবাই।





