শেরপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটে ইনচার্জ অপসারণের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন
স্বাস্থ্য
এখন জনপদে
0

শেরপুর নার্সিং ইন্সটিটিউটের ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিনের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন প্রতিষ্ঠানের ২৯১ শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, ইনচার্জের নানা অনিয়ম, অন্যায় আচরণ ও হয়রানির কারণে সৃষ্টি হয়েছে এই পরিস্থিতির। আর শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিনের।

শেরপুর নার্সিং ইন্সটিটিউটের ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিনের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে। আন্দোলনের ফলে ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে দেখা দিয়েছে নার্স সংকট, যাতে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।

দীর্ঘ দুই বছর ধরে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মাকসুদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে কয়েকবার ক্লাস বর্জন করেছিল শিক্ষার্থীরা। সবশেষ তার বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনসহ নানা অভিযোগ এনে ক্লাস বর্জন করে তারা। সবশেষ গত ১৩ সেপ্টেম্বর ইনচার্জের অপসারণের দাবিতে ক্লাসরুমে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর টেস্ট পরীক্ষা এবং অক্টোবরের শেষে বার্ষিক পরীক্ষা। কিন্তু আন্দোলনের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদেরকে নানাভাবে হুমকি ও আন্দোলন বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দেয়া হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে ইনচার্জকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার দাবি তাদের।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘বাজে কথা বলে তিনি আমাদের হেনস্তা করার চেষ্টা করেন। এখন আমরা আমাদের সঠিক ক্লাস, পরিবেশ, ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস সবকিছুতে আমরা যেতে চাই।’

অন্য একজন বলেন, ‘আমাদের সামনে পরীক্ষা, আপনারা আমাদের নার্সিংয়ের এখানে অভিভাবক বলতে আমরা কাউকে পাইতেছি না।’

আরও পড়ুন:

অপরদিকে শিক্ষার্থীদের সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

মাকসুদা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমি এখন কিছু বলতে পারবো না, সরি। এখন আমার মিডিয়ার সামনে যেতে হলে কিছু রুলস অ্যান্ড রেগুলেশন এবং সরকারি জিও মেনে সামনে যেতে হবে। বর্তমানে ইন্সটিটিউটে এ বিষয় নিয়ে তদন্ত শুরু হইছে কালকের থেকে। তদন্ত শেষ হোক।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান সিভিল সার্জন।

শেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘সদর হাসপাতালের একজন ডাক্তার এবং আমার অফিসের একজন স্টাফকে দিয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হয়েছে এবং কমিটি কাজ চলমান আছে। তিন দিন পর আমরা রিপোর্টটা দিলে সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তীতে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারবো।’

অচিরেই ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে না দিলে আন্দোলন আরও জোরদার এবং কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির হুশিয়ারি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

এসএস