১ অক্টোবর থেকে হবিগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের সর্বাত্মক পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

হবিগঞ্জ
বাস টার্মিনাল
এখন জনপদে
0

হবিগঞ্জ থেকে মৌলভীবাজারগামী বাস আটকে রাখা, ভাঙচুর ও শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর) সকাল থেকে হবিগঞ্জ জেলায় অনির্দিষ্টকালের সর্বাত্মক পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা। ধর্মঘট চলাকালে হবিগঞ্জের অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন হবিগঞ্জ মোটর গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-শেরপুর-সিলেট রুটে হবিগঞ্জের পরিবহন মালিকরা বাস পরিচালনা করে আসছেন। তবে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে মৌলভীবাজারের মালিক-শ্রমিকদের বাধার কারণে দুই জেলার পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধান হয় এবং হবিগঞ্জের বাসগুলো আগের মতো চলাচলের সিদ্ধান্ত হয়।

সোহেলের দাবি, চলতি বছরের ১০ মে কোনো ধরনের পূর্ব যোগাযোগ ছাড়াই মৌলভীবাজারের এসএমএস মালিক-শ্রমিকরা শেরপুর এলাকায় হবিগঞ্জের একটি বাস আটক করেন। এতে দুই জেলার মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে হুইপ জি কে গউছের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই জেলার মালিক-শ্রমিক নেতারাসহ জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকবে, তবে শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের বাস কোনো স্টপেজ দিতে পারবে না।

হবিগঞ্জ মোটর গ্রুপের সাধারণ সম্পাদকের ভাষ্য— ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচল অব্যাহত থাকলেও গত ১১ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের এসএমএস মালিক-শ্রমিকরা হবিগঞ্জের ২২টি বাস আটক করেন। এতে ওই রুটে আবারও বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরে বিরোধের সমাধানে ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে ঢাকায় সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় মহাসচিব সাইফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির খানসহ হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের মালিক-শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ১২ জুনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে বাস চলাচলের বিষয়ে সমঝোতা হয়। এরপর মৌলভীবাজারের এসএমএস কর্তৃপক্ষ হবিগঞ্জের আটক বাসগুলো ছেড়ে দেয় বলে জানান সোহেল।

তিনি আরও জানান, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে ওই রুটে বাস চলাচল পুনরায় শুরু হলে মৌলভীবাজারের এসএমএস কর্তৃপক্ষ আবারও হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটক করে। বাসগুলো এখনো ছাড়েনি বলে দাবি করেন তিনি।

এ অবস্থায় মৌলভীবাজারগামী হবিগঞ্জের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর প্রতিবাদে ১ অক্টোবর ভোর থেকে হবিগঞ্জ জেলায় অনির্দিষ্টকালের সর্বাত্মক পরিবহন ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আবু মঈন চৌধুরী সোহেল বলেন, ‘আমরা চাই, পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের বাসগুলো যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। বারবার বাস আটকে দেয়ার কারণে আমরা ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হচ্ছি।’

এসএইচ