দখল-দূষণে বিপর্যস্ত ডাকাতিয়া; ১০ কিলোমিটারে ৭০০ অবৈধ স্থাপনা

ডাকাতিয়া নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা
এখন জনপদে
0

দখল-দূষণে বিপর্যস্ত চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদী। কমছে মাছ, হারাচ্ছে জীববৈচিত্র্য। নদীর দুই তীরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ বলছে, শহরের বড় স্টেশন থেকে গাছতলা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় চিহ্নিত হয়েছে সাত শতাধিক অবৈধ স্থাপনা। এসব উচ্ছেদে শিগগিরই চালানো হবে অভিযান।

চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদী এক সময় ছিল মাছের অন্যতম ভাণ্ডার। মাছ ধরা নৌকা আর জেলেদের ব্যস্ততায় নদীর বুকে ছিল প্রাণের স্পন্দন। সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিরচেনা চিত্র। দখল আর দূষণে ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়েছে নদীটি।

চাঁদপুরের ডাকাতিয়া এখন নদীখেকোদের দখলে। কোথাও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কোথাও বা বসতঘর। বড় স্টেশন, চৌধুরী ঘাট, নতুন বাজার ও গুনরাজদিসহ বিভিন্ন এলাকায় নদীর দুই পাড়ে হয়েছে অবৈধ দখল। প্রশস্ততা কমায় ব্যাহত হচ্ছে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ। দখলের পাশাপাশি দূষণেও বিপর্যস্ত চাঁদপুরের লাইফলাইন। এর প্রভাব পড়েছে নদীর জীববৈচিত্র্যে।

একসময় যে নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত, সেখানে এখন মাছের পরিমাণ ক্রমেই কমছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদীনির্ভর জীবন ও পরিবেশ। নদীর রক্ষায় দ্রুত উচ্ছেদ অভিযানের দাবি স্থানীয়দের।

আরও পড়ুন:

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘এই নদীটা আগে অনেক বড় ছিল। এখন দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে নদীগুলা দখল হয়ে যাচ্ছে। যার কারণে আমাদের নদীটা দিন দিন ছোট হয়ে আসছে।’

অন্য একজন বলেন, ‘আপনার পানিগুলা দূষণ নষ্ট হয়ে যাইতেছে। যা তারপরে যে বাল্কহেড যাইতে পারতেছে না। কিছু কিছু বাল্কহেড আটকিয়া যায়। আবার এখানে কিছু কিছু অ্যাকসিডেন্টও হইতেছে।’

বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ বলছে, বড় স্টেশন থেকে গাছতলা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় ৭ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থাপনা উচ্ছেদে অচিরেই অভিযান চালানোর কথা জানান কর্মকর্তারা।

চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘অনেক বছর যাবৎ এখানে উচ্ছেদ কার্যক্রম করা হয় নাই এবং অনেক অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। তো আমরা টোটাল সার্বিক ব্যবস্থাপনার পর পর্যবেক্ষণ করেছি। আমরা খুব দ্রুতই উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করতে পারবো।’

শুধু দখল মুক্ত করলেই হবে না, ডাকাতিয়া নদীকে বাঁচাতে নিশ্চিত করতে হবে দূষণমুক্ত পরিবেশ। ফিরিয়ে আনতে হবে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও জীববৈচিত্র্য। ডাকাতিয়া নদীর সুদিন ফিরে আসার অপেক্ষায় চাঁদপুরবাসী।

এসএস