উপকূলীয় এলাকা হবার কারণে বরিশাল অঞ্চল নদ-নদী বেষ্টিত। বরিশাল জেলায় নদীর সংখ্যা ৩৮টি, প্রায় সবগুলো নদীই বড় বড়। বছরজুড়েই কোনো না কোনো নদীতে ভাঙন থাকে, আর বর্ষায় এই ভাঙন তীব্র হয়। এবার বর্ষার শেষ দিকেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
আড়িয়াল খাঁ নদীর দৈর্ঘ্য ১৫৪ কিলোমিটার, যার ৬৪ কিলোমিটারই বরিশাল জেলায়। বরিশাল অংশের বিভিন্ন স্থান ভাঙনকবলিত। বিশেষ করে গৌরনদীর মিয়ারচর এলাকার নদী তীরের মানুষ এখন দিশেহারা।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘ওরা দুই-তিনশত বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। কিছু মসজিদ গেছে, কিছু মাদ্রাসাও গেছে।’
অন্য একজন বলেন, ‘এখন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এটিও ভাঙ্গার সম্মুখীন হয়ে গেছে। এখানে যদি এখন নদী ভাঙন রোধ না করা হয়, ভবিষ্যতে এই গ্রাম বিলীন হয়ে যাবে।’
বিভিন্ন নদীর ভাঙন রোধে চেষ্টা চলছে। আড়িয়াল খাঁ নদীর মিয়ারচর এলাকা রক্ষায় এরইমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন:
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, ‘স্বল্প বরাদ্দের ভেতরে আমরা তাৎক্ষণিক যে ব্যবস্থা নিয়েছি, সেটা আমি মনে করি এই মুহূর্তে সন্তোষজনক। তবে এই ভাঙনের তীব্রতা অব্যাহত রয়েছে। তবে ভাঙন রোধে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’
ভারত ও বাংলাদেশের ৫৪টি অভিন্ন নদী আছে। গঙ্গা ছাড়া আর কোনোটির পানি বণ্টনে চুক্তি হয়নি। তিস্তার প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত। দু’দেশের পানিবণ্টন নীতিমালা সঠিক বাস্তবায়ন হলে নদী ভাঙন কমবে বলে মনে করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে এই পানিবণ্টন নীতিমালার সুষ্ঠু সমাধান করা দরকার। এবং এই সমাধান যদি করতে পারে সরকার বা বাংলাদেশ বা ভারত যদি এই সমাধানে পৌঁছাতে পারে, তাহলে আমাদের নদীগুলা বেঁচে যাবে এবং আমরা নদীর ভাঙন থেকে উপকৃত হব।’
বরিশাল জেলায় ৩৮টি নদীর দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার। এর ভেতরে ৬০ কিলোমিটারই ভাঙনকবলিত। ২৫ কিলোমিটার এলাকা মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। চলতি বর্ষায় মাত্র ৯ কিলোমিটার এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ করা হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা। পুরো ৬০ কিলোমিটার কাজ করতে প্রয়োজন হতো ২৫০ কোটি টাকা।
বরিশালের নদীগুলোতে ৬ ঘণ্টা পর পর জোয়ার-ভাটা চলে। নদীতে প্রচুর পলি জমা হয়। নদীর মাটি বালি, পলি এবং কাঁদার সংমিশ্রণ। আর এ কারণে সারাবছর এখানে নদী ভাঙন থাকে। তবে বর্ষাকালে তা তীব্র হয়। এ সমস্যার সমাধানে গবেষণা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





