হবিগঞ্জের সড়কগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন। এতে সড়কে বিশৃঙ্খলার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। বিআরটি-এর তথ্য মতে, হবিগঞ্জে মোট নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা ৩১ হাজার ৮৬১টি। এর মধ্যে ১০ হাজার ৫০৪টির ফিটনেস নেই। অর্থাৎ, জেলায় নিবন্ধিত মোট যানবাহনের প্রায় ৩৩ শতাংশই ফিটনেসবিহীন।
ফিটনেসবিহীন যানবাহনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অটোরিকশা। এছাড়া হিউম্যান হলার, পিকআপ, ট্রাক, বাস, অটো টেম্পু ও মাইক্রোবাসও রয়েছে। এমনকি রোগী নিয়ে নিয়মিত চলাচল করছে ফিটসেনবিহীন অন্তত ১০ অ্যাম্বুলেন্স।
ফিটনেসবিহীন এসব যানবাহনের অনেকগুলোই সড়কে চলাচলের উপযোগিতা হারিয়েছে। পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। এর সঙ্গে চালকদের অদক্ষতা ও ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা সড়কে তৈরি হচ্ছে বাড়তি ঝুঁকি। ফলে সড়কে বিশৃঙ্খলার সাথে বাড়ছে দুর্ঘটনা।
আরও পড়ুন:
যাত্রী ও সাধারণ মানুষরা জানান, অবৈধ কিছু গাড়ি প্রতিনিয়ত হবিগঞ্জ জেলা শহরে ঢুকছে এবং চলছে। সামনে হেডলাইট নাই, পেছনে সিগন্যালের বাতি নেই। তারপর অদক্ষ ড্রাইভার। অনেক দুর্ঘটনা হচ্ছে, এক্সিডেন্ট হচ্ছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহনগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি তাদের।
তবে ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশ।
তাদের দাবি, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন ও আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
হবিগঞ্জ বিআরটিএ সহকারী পরিচালক মো. আব্দুর রশিদ বলেন, ‘ফিটনেস যখন মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তখন আমাদের সিস্টেম থেকে অটোমেটিকলি তাদের কাছে একটা মেসেজ যায়। ওই মেসেজ যাওয়ার পরে তারা আমাদের কাছে ফিটনেস করতে কেউ আসে, কেউ আসে না। যারা আসে না তারা ডিফল্টার হয়ে যায়। এছাড়া আমরা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে, জেলা প্রশাসনের সহায়তায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি।’
হবিগঞ্জ ট্রফিক ইন্সপেক্টর রেজাউল করিম খান বলেন, ‘সরকারিভাবে একটা নির্দেশনাও থাকে যে উইদাউট জরিমানায় ফিটনেস বিআরটিএ থেকে করে নেয়ার এবং ওই প্রক্রিয়াটাও আমার জানামতে চলছে, ওটা বন্ধ নাই এবং ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলো র্যান্ডম ফিটনেস করে নিচ্ছে।’
বিআরটি এর হিসাবে হবিগঞ্জে নিবন্ধিত মোট যানবাহনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশেরই নেই বৈধ ফিটনেস। এসব যানবাহনের পাশাপাশি সড়কে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি সাধারণ মানুষের।





