আট মাসেও শেষ হয়নি সড়ক সংস্কার, বৃষ্টিতেই হাঁটুপানি

মানিকগঞ্জ
আট মাসেও শেষ হয়নি সড়ক সংস্কার
এখন জনপদে
0

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উথলী থেকে জাফরগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য খুঁড়ে রাখা হলেও কাজ শেষ হয়নি আট মাসেও। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে জমে হাঁটু পানি। চরম ভোগান্তির শিকার শিবালয়, ঘিওর, দৌলতপুর, এই তিন উপজেলার হাজারো মানুষের দাবি যত দ্রুত সম্ভব রাস্তার কাজ শেষ করা।

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উথুলী থেকে জাফরগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ৯ কিলোমিটার। অথচ আট মাস ধরে শেষ হচ্ছে না সংস্কারের জন্য খুঁড়ে রাখা সড়কের কাজ। যার ফলে দুর্ভোগের শেষ নেই এই এলাকায় বসবাসকারী হাজারো মানুষের। কোথাও বড় বড় গর্ত, আবার কোথাও সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটু পানি। রোগী ও গর্ভবতী নারীদের যেন কষ্টের শেষ নেই। বয়স্করাও চলাচলে পড়েন চরম অসুবিধায়। এছাড়া শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলের কষ্টও সীমাহীন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পল্লী সড়ক ও কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণের কর্মসূচির আওতায় উথুলী থেকে মঠব্রীজ পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে গত ১৮ জানুয়ারি কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আহাদ বিল্ডার্স।

কাজ শেষের সময়সীমা ছিল ১৭ জুন। শুরুতে সড়কের কিছু অংশের কার্পেটিং তুলে ফেলা হলেও পরে আর তেমন কাজই হয়নি। অতি বৃষ্টির পর কাজ বন্ধ করে চলে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত সময়ের চার মাস পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ১২ শতাংশ।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘ভাঙা রাস্তার কারণে এখন অনেক লোক আরিচা হয়ে ঘুরে যেতে হচ্ছে। স্কুলের কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরাও যেতে পারতেছে না। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা যে একটা রোগী নিয়ে গেলেও এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা নাই।’

আরও পড়ুন:

অন্য একজন বলেন, ‘এই জায়গাতে হাঁটু পানি ছিল এই রাস্তার ওপরে। মানুষের চলাচল নৌকা নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। কয়েকদিন আগে এখানে একটা এক্সিডেন্ট হইছে, অটো উল্টায়া পইড়া মনে করেন যে বেদিগ অবস্থা। ঠিকাদার কাজটা নেয়ার পর ঠিকাদার কই যে গেছে এখনো অর্ধেক কাজ কইরা, আর কোনো এই রাস্তার খবর-বার্তা নিতেছে না।’

জনভোগান্তির কথা স্বীকার করেছে এলজিইডি। ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো সংস্কার কাজ শেষ করার আশা কর্মকর্তার।

মানিকগঞ্জ শিবালয়ের উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আশা করি ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটা শেষ হয়ে যাবে। আর বাকি যে চার কিলোমিটারের পরে যে পাঁচ কিলোমিটার, এর মধ্যে আমরা আরও চার কি.মি. এই অর্থবছরে ওই ইয়ার রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায়ই আবার টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন আছে। তাতে ৮ কি.মি. হলো, তারপর বাকি ১ কি.মি. আমরা অলরেডি এস্টিমেট পাঠিয়েছি, যা অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।’

কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পরও আস্থা রাখতে পারছে না এই রাস্তা ব্যবহারকারী মানুষজন। ভোগান্তি কাটিয়ে সহজ যোগাযোগের অপেক্ষায় তারা।

এসএস