চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় চন্দ্রঘোনা বাজারে স্বর্ণের দোকানের শোকেসে ঝুলছে বিশাল অজগর। দোকান খুলতেই ১৪ ফুট লম্বা এ অজগর দেখে আতংক ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাজারে।
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে লোকালয়ে সাপের আনাগোনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বনে জঙ্গলে নিভৃতে থাকা বিষধর সাপ এখন দেখা মিলছে বাসাবাড়ি, নালা, খাল, দোকানপাট, ঝোপঝাড়, হোটেল, ক্যান্টিন এমনকি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুম, আবাসিক হল ও শিক্ষকদের বাসাবাড়িতেও।
সিভিল সার্জনের হিসাবে, চট্টগ্রামে বছরে গড়ে ১৯০০ জন সাপের কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ বছর বন্যার সময় মাত্র এক সপ্তাহে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১১৭ জন। প্রতিনিয়ত সাপ আতঙ্ক নিয়ে চলা ফেরা করতে হচ্ছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
ভয়ের কারণে লোকালয়ে আসা সাপকে পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি স্নেক রেসকিউ টিম। তাদের তথ্য মতে, দেশে বছরে অন্তত ৩ থেকে ৪ হাজার সাপ তারা উদ্ধার করছেন। হাসপাতালে এনে দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা।
প্রশ্ন হচ্ছে, আবাসস্থল ছেড়ে লোকালয়ে কেন আসছে বিষাক্ত সাপ? এজন্য বন জঙ্গল নষ্ট হওয়া, ঝোপঝাড় পরিষ্কার, বনে বসতি স্থাপন বাড়াসহ নানা কারনকে দায়ী করা হচ্ছে।
স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সিদ্দিকুর রহমান রাব্বি বলেন, ‘আমরা আমাদের চার পাশের বন উজার করে চাষাবাদের জন্য জায়গা তৈরি করছি। ফলে সাপ মানুষের বাসা বাড়িতে কিংবা লোকালয়ে চলে আসছে।’
গবেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, কীটনাশক প্রয়োগসহ নানা কারণে ব্যাঙ, ইঁদুরসহ কীট-পতঙ্গ মারা যাওয়ায় খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ছে সাপ। এছাড়াও গত তিন বছরে চট্টগ্রাম, ফেনী, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়িসহ পুরো অঞ্চলে তিনবার ভয়াবহ বন্যার কারণে সাপ জায়গা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে।
চবি প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সাপ গবেষক ড. আবদুল ওয়াহেদ বলেন, ‘আবাহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এই সাপগুলো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে আসছে। যার ফলে অনেক সাপ এখন বিভিন্ন স্থানে দেখা যাচ্ছে।’
প্রাগতৈহাসিক সময় থেকে সাপকে শত্রু হিসাবেই ভাবে সাধারণ মানুষ, এ মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করছেন গবেষকরা।





