পাবনার ঈশ্বরদীতে স্কুলের মাত্র কয়েকশ মিটার দূরে পদ্মা নদীতে চলছে বালু উত্তোলনের কর্মযজ্ঞ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজর এড়াতে গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত চলে এই তৎপরতা। হুমকিতে নদীপাড়ের জনবসতি ও স্কুল।
আরামবাড়িয়ার বাসিন্দা মুসলিমা বেগমসহ অনেকে বালু উত্তোলন ঘিরে অস্ত্র মহড়া ও গুলি ছোঁড়া ঘটনায় আতঙ্কে দিন পার করছেন।মুসলিমা বলেন, ‘এক থেকে দুই কাঠা জমি নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। নদী তো আমাদের ঘরের কাছে।’
আরামবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাত্র এক থেকে দুই মিটারের মধ্যে রাতভর পদ্মার পাড়ে চলছে বালু উত্তোলনের মহাযজ্ঞ। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী থেকে বালু তোলার কারণে তীরের মাটি দুর্বল হলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বসতবাড়ি ও আশপাশের স্থাপনা।
বিশেষ করে নদীর তীর রক্ষায় স্থাপন করা ব্লকের নিরাপত্তা এবং মাঝেমধ্যেই বালু উত্তোলন ঘিরে এই অঞ্চলে হানাহানি ও গোলাগুলি নিত্যদিনের ব্যাপারে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা।
আরও পড়ুন
স্থানীয়রা জানান, দিনের বেলায় বালু উত্তোলন করে না, রাতে উত্তোলন করে। আর তা প্রশাসন সহকারে, প্রশাসন যোগ আছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য বালু ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের। তারা বলছেন, নদী থেকে এখানে বালু উত্তোলন করা হয় না; দূর থেকে বালু এনে শুধু আনলোড করা হয়।
বালু উত্তোলনকারী আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে তো হচ্ছে এক এই নদীতে, এই আশপাশে কেউ বলতে পারবে না বালু উঠছে কোনো জায়গায় থেকে। কেউ যদি বলতে পারে আমরা ঘাট বন্ধ করে দেব। আর আমরা এমন কোনো কাজ করব না যাতে মানুষের ক্ষতি হোক।’
নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলেন জেলার এই কর্মকর্তা।
পাবনার জেলা প্রশাসক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসিল্যান্ড রয়েছে, তাদেরকে পুলিশ সমেত এবং আমাদের যারা অন্যান্য আইন প্রক্রিয়ার সংস্থা রয়েছে, তাদের সমেত অভিযান করার জন্য আমরা নির্দেশনা প্রদান করব।’
ঈশ্বরদীতে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা বন্ধের পাশাপাশি নদীর তীর, বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ চান স্থানীয়রা।





