কর্মসূচিতে অংশ নেয়া বনজীবীরা অভিযোগ করেন, পশ্চিম সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় এখনো অস্ত্রধারী জলদস্যুদের তৎপরতা রয়েছে। অপহরণ, মুক্তিপণ ও অগ্রিম চাঁদা আদায়ের ভয়ে অনেক জেলে-বাওয়ালি জীবিকার সন্ধানে সুন্দরবনে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। এতে বননির্ভর অসংখ্য পরিবারের জীবন-জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বক্তারা বলেন, সুন্দরবনের নদী-খাল ও বনজ সম্পদের ওপর নির্ভর করে হাজারো পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। সরকারকে নিয়মিত কর ও রাজস্ব দিয়ে অনুমতি নিয়ে বনে যাওয়ার পরও তাদের অপহরণ ও মুক্তিপণের আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। অথচ বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কার্যকর ও দৃশ্যমান অভিযান দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।
আন্দোলনকারীরা প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। তাহলে সুন্দরবনে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় কেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের অপেক্ষায় থাকতে হবে? জীবিকার জন্য বনে যাওয়া মানুষ কেন প্রতিনিয়ত অপহরণ ও চাঁদাবাজির ঝুঁকিতে থাকবেন?
বক্তাদের অভিযোগ, বন বিভাগের সদস্যরা ড্রোন ব্যবহার করে বনে অবস্থানরত জেলেদের শনাক্ত ও আটক করতে পারলেও আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত জলদস্যুদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। এমনকি বন বিভাগের সদস্যরাও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করেন তারা।
জলদস্যুদের হাতে আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ কোথা থেকে আসছে এবং কারা তাদের অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ করছে, তা তদন্তেরও দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনের সমন্বয়ক ও গাবুরার তরুণ নেতা, সাতক্ষীরা কৃষক দলের আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন লিটনসহ বক্তারা সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করতে অবিলম্বে বন বিভাগ, পুলিশ, র্যাব, কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।
পাশাপাশি জেলে-বাওয়ালি অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, চাঁদাবাজি ও বন্যপ্রাণী হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
আন্দোলনকারীরা জানান, গত ২৮ অক্টোবর মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। ২৯ অক্টোবর বিক্ষোভ সমাবেশ এবং ৩০ অক্টোবর অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেয়া হবে। পরদিন ২ নভেম্বর সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান ও অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা রয়েছে।
জলদস্যুদের অপহরণ ও মুক্তিপণের আতঙ্কমুক্ত একটি নিরাপদ সুন্দরবন গড়ে তোলাই তাদের মূল দাবি।





