নরসিংদী সদর উপজেলার শিলমান্দী এলাকায় ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ফারুক-আজিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিগত সরকারের অর্থায়নে নির্মিত নতুন আধুনিক শিক্ষা ভবনে গত বছরেই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।
এরই মধ্যে একটি প্রমাণ এসেছে এখন টেলিভিশনের হাতে। যেখানে দেখা যায়, গনি মিয়া নামে এক ব্যবসায়ির কাছে পরিত্যক্ত ভবনের গ্রিল, জানালাসহ অন্যন্য সরঞ্জাম বিক্রি করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসবের মূলহোতা বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিকা জয়শ্রী সাহা। পুরো স্কুল ভবনটি গনি মিয়া নামে ওই ব্যবসায়ির কাছে বিক্রি করেছেন তিনি। পরিচালনা কমিটি কিংবা কারো সাথেই আলোচনা না করে ভবন বিক্রি ও অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা চালান ওই শিক্ষিকা। এর আগেও আরেকটি ভবন বিক্রিসহ তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ।
একজন এলাকাবাসী বলেন, ‘দায়িত্ব থাকলেই যে আমি একটা কিছু করে নেব, এটা তো সঠিক না। এখানে অনেক ছাত্র-ছাত্রী আছে, এরা বহুত নির্যাতনের মধ্যে এখানে গেল।’
আরও পড়ুন
উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, বিদ্যালয়টির ভবন ভাঙ্গার মৌখিক কিংবা লিখিত কোন নির্দেশনাই দেয়া হয়নি। অপরদিকে, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকার দাবি, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষা কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে স্কুলের পরিত্যাক্ত ভবনটি ভাঙ্গা হয়েছে। তবে পুরাতন মালামাল বিক্রির অভিযোগটি সঠিক নয়।এদিকে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে ফোনে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
নরসিংদী ফারুক-আজিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জয়শ্রী সাহা বলেন, ‘বিক্রিও করা হয়নি। বিক্রি অবশ্যই, সেটা তো অপশনে (নিলামে) দিলে সেটা দরপত্র আহ্বান করবে আমাদের উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। এখন এটা যখন আমার মানে কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর একটা জীবনের ওপর হুমকিস্বরূপ, তখন সেটা সেটার জন্য সাইটে ইয়ে করা হয়েছে।’
নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার বলেন, ‘পুরাতন ভবন বা পুরাতন জিনিসপত্র সেগুলো যদি থাকে, এগুলো নিলামে বিক্রি করার একটা প্রসিডিউর আছে। সেটা আগে করা হয়েছে কিনা, আমি উপজেলা প্রকৌশলীসহ শিক্ষা অফিসারকে বলছি এটা দেখার জন্য।’
এ বিষয়ে ক্যামেরায় কথা বলতে রাজি হননি মালামাল ক্রয়কারী গণি মিয়া। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি সংশ্লিষ্টদের।





