কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাবে আখাউড়া বন্দরে কমেছে রপ্তানি আয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আখাউড়া বন্দর
অর্থনীতি , আমদানি-রপ্তানি
এখন জনপদে
0

ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনে আখাউড়া স্থলবন্দরে গত অর্থবছরে আশানুরূপ রপ্তানি আয় বাড়েনি। আর অনিয়মিত পণ্য আমদানির কারণে রাজস্ব আয়েও পড়েছে ভাটা। ব্যবসায়ীদের দাবি, উচ্চ চাহিদা সম্পন্ন কয়েকটি পণ্য আমদানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রপ্তানি বাণিজ্য। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি তাদের।

আখাউড়া স্থলবন্দরের ইয়ার্ডে অপেক্ষমাণ এসব পণ্যবোঝাই ট্রাকের গন্তব্য ভারত। এসব ট্রাকে রয়েছে হিমায়িত মাছ, আটা-ময়দা, ভোজ্যতেল। বর্তমানে রপ্তানিপণ্যের তালিকা ছোট হয়ে আসলেও এখনও দেশের অন্যতম বৃহৎ ও রপ্তানিমুখী স্থলবন্দর আখাউড়া।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি হয়েছে ৫২৪ কোটি টাকার পণ্য। একই সময়ে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে মাত্র ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার চাল, জিরা ও আগরবাতি। যা থেকে সরকারের রাজস্ব এসেছে ৭১ লাখ ৩২ হাজার টাকা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে বন্দরের রপ্তানি বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। গত বছরের মে মাসে ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও মিজোরামের স্থলবন্দরগুলো দিয়ে প্লাস্টিক, প্রক্রিয়াজাত খাবার, পিভিসি সামগ্রী ও তুলার মতো কয়েকটি পণ্য আমদানিতে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে আখাউড়া স্থলবন্দরের রপ্তানি প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যায়।

আরও পড়ুন

ব্যবসায়ীরা জানান, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পণ্য আমদানির নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়ার কথা বলেন তারা।

বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি বন্ধের কারণে ত্রিপুরার বাজারে দাম বেড়েছে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া পণ্যগুলোর। তাই দুই দেশের সরকারের আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি ত্রিপুরার ব্যবসায়ীদের।

ত্রিপুরা-ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক সুজিত রায় বলেন, ‘ভারত আর বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ যেন এই নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়া হোক।’

আমদানি-রপ্তানি বাড়াতে ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে বলে জানায় শুল্ক কর্তৃপক্ষ।

আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার শেখ শাহির আহমেদ বলেন, ‘এই বিষয়গুলো আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি আর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নেবো।’

১৯৯৪ সাল থেকে ভারতের সঙ্গে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য চলছে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে। এসব পণ্য ত্রিপুরা থেকে উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলোতে সরবরাহ করা হয়।

জেআর