পেঁয়াজে উৎপাদনের রেকর্ড; কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিতে রপ্তানির দাবি

পেঁয়াজ
অর্থনীতি , আমদানি-রপ্তানি
এখন জনপদে
0

এক সময়ের আমদানিনির্ভর পেঁয়াজের বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন বাড়ায় চলতি বছর আগস্ট পর্যন্ত কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। এতে সারা বছরই বাজার ছিল স্থিতিশীল। তবে চাহিদার অতিরিক্ত পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষক ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কৃষককে বাঁচাতে পেঁয়াজ রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় নাম ওঠানোর সময় এসেছে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। একইসঙ্গে পর্যাপ্ত হিমাগারের সংখ্যা বাড়ানোর দাবিও উঠেছে।

দেশের অন্যতম দ্বিতীয় বৃহত্তর পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা ফরিদপুর। মৌসুমে এক জেলাতেই পেঁয়াজ আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব জমি থেকে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ৫১ হাজার টন পেঁয়াজ।

জেলার চাষিরা উচ্চফলনশীল বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজের চাষ করলেও কিং জাতের আবাদ বেশি। এ জাতের আকার তুলনামূলক বড় হওয়ায় ফলনও বেশি পাওয়া যায়। বর্তমানে ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন বাজারে চাষি পর্যায়ে প্রকারভেদে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে। তবে এই বাজারদরে উৎপাদন খরচ ও সংরক্ষণ ব্যয় নিয়েও চিন্তায় অনেক কৃষক।

কৃষকরা জানান, এ বছর ভালো ফলন হলেও দাম পাচ্ছেন না তারা। সার কীটনাশক সবজিনিসের দামই বেশি। সে তুলনায় দাম পাচ্ছেন না তারা।

এবার পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে এখন এক হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করছি। দামটা যদি আরও একটু ভালো পাওয়া যায়, তাহলে আমরা লাভবান হবো।

কৃষি বিভাগ বলছে, জেলার চাষিদের ঘরে এখনো যে পরিমাণ পেঁয়াজ মজুত আছে তাতে আমদানির প্রয়োজন আপাতত নেই।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ শাহাদুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমানে যে পরিমাণে পেঁয়াজ মজুত আছে তাতে এ বছর আমদানি করার প্রয়োজন হবে না।’

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়েই বাজারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব, তবে দর আরো একটু বৃদ্ধি পেলে চাষীরা লাভবান হতো।

আরও পড়ুন:

দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৮ লাখ টন। এক সময় চাহিদার এক চতুর্থাংশের বেশি পেয়াজ আমদানি করতে হতো। যার প্রধান বাজার ছিলো চট্টগ্রাম। বিশেষ করে ভারতীয় নাসিক জাতের পেঁয়াজ আকারে বড় আর ঝাঁঝালো হওয়ায় এ অঞ্চলের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় নাসিক পেঁয়াজ।

তবে ধীরে ধীরে বাংলাদেশ পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়িয়েছে। যা এখন এনে দিয়েছে স্বয়ংসম্পূর্ণতা। পরিসংখ্যান বলছে সব শেষ অর্থবছরে বাংলাদেশ পেঁয়াজ উৎপাদন করেছে ৪২ লাখ ৬৪ হাজার টন। যা ৪ বছর আগে ছিল ৩৪ লাখ ১৬ হাজার টন।

পেঁয়াজের এই বাম্পার ফলনে চলতি বছর আগস্ট পর্যন্ত কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। যার প্রভাব পড়েছে খাতুনগঞ্জেও। সারাবছরই বিক্রি হয়েছে ২৫ থেকে ৪০ টাকার ভেতর। বাজারে ছিলো না অস্থিরতাও। এতে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ই ছিল সন্তুষ্ট।

স্থানীয়রা জানান, ভারত থেকে আমদামি বন্ধ হওয়ার পর আশঙ্কা করা হয়েছিলো অনেক দাম বাড়বে। তবে পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়েই ছিলো।

যদিও আড়তদাররা বলছেন, পেঁয়াজ আমদানির সুযোগ থাকলে বাজারে কৃত্রিম কারসাজির সুযোগ তৈরি হয়। গুটি কয়েক আমদানীকারকের কাছে পুরো বাজারের নিয়ন্ত্রণ থাকে। অনেক সময় আমদানি করা পেঁয়াজ খালাস না করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে দাম বৃদ্ধি করা হয়। তবে এবার সে সুযোগও পায়নি অসাধু আমদানীকারকরা।

আমদানীকারকরা বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজ যখনই আমরা ইম্পর্ট করি তখনই কিছু ইম্পর্টারদের হাতে চলে যায়। তারা নিয়ন্ত্রণ করে।

দেশে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৭ লাখ ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করে। ধারাবাহিক কমতে কমতে সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নেমে দাঁড়ায় ৮৬ হাজার টনে। তবে চাহিদার অতিরিক্ত পেঁয়াজ উৎপাদনে মাঠে কৃষক ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও দাবি ব্যাপারীদের। এমতাবস্থায় কৃষককে বাঁচাতে বিশ্বের প্রধান আমদানিকারকের তকমা ঘুচিয়ে পেঁয়াজ রপ্তানিকারকের তালিকায় নাম ওঠানোর তাগিদ তাদের।

পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করলেও এখনও সংরক্ষণের অভাবে ২০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হচ্ছে। এতে কৃষক, ব্যাপারী আড়তদার প্রত্যেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই সরকারি উদ্যোগে পর্যাপ্ত হিমাগারের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি ব্যবসায়ীদের।

এফএস