চলতি শুষ্ক মৌসুমে কুষ্টিয়া অঞ্চলে নদীর উৎসমুখ থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার এলাকা শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। নেই পানির ঢেউ, স্রোতের বয়ে চলা।
সারা বছর নাব্য ধরে রাখতে কয়েক দফায় নদী খনন প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। তবুও শুষ্ক মৌসুমে বন্ধ হয়ে যায় নদীর স্রোতোধারা। অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেজিং, অব্যবস্থাপনা ও খনন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণেই বার বার ব্যর্থ হচ্ছে গড়াই নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্পটি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীতে পানি না থাকায় কৃষি জমিতে ফসল আবাদ করা যাচ্ছে না। তাছাড়া পানি না থাকায় নদীতে মাছ ও পাওয়া যাচ্ছে না।
আরও পড়ুন:
শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানির স্তর নেমে গেলে গড়াইয়ের মুখে জমে ওঠে বিশাল বালুরাশি। এতে বন্ধ হয়ে যায় মিঠাপানির প্রবাহ। আর এর প্রভাব পড়ে দক্ষিণাঞ্চলে। বাড়ে লবণাক্ততা, হুমকিতে পড়ে কৃষি জমি ও মৎস্য। সংকটে পড়ে সুন্দরবন-এর জীববৈচিত্র্য।স্থনীয় বাসিন্দা একজন বলেন, ‘আমরা চাই সরকার যেন নদীটি খনন করে। পানি প্রবাহ সচল রাখে।’
নদী গবেষকরা বলছে, শুধু খনন নয়, অনিয়ম দুর্নীতি রোধেও প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা।
কুষ্টিয়া নদী গবেষক গৌতম কুমার রায় বলেন, ‘কৌশলগত যে নির্বুদ্ধিতা তা দুর্নীতির কারণে হতে পারে। এ কারণে আমরা সুফল পাচ্ছি না। বছর বছর শুধু টাকা খরচ হচ্ছে। অবশ্যই আমাদেরকে সুন্দর চিন্তা করতে হবে।’
এ নিয়ে গড়াই ড্রেজিং প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। এদিকে, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহিতামূলক খনন কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আহমেদ মাহবুব-উল- ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের প্রকল্প যেন জনসম্পৃক্ততা যাচাই করে, জনগণের মতামত নিয়ে করা হয়। আর এটি যেন ফলো-আপ থাকে। ফলো-আপ থাকলে আমরা মনে করি অনিয়ম দুর্নীতি থাকবে না। যদি কোনো অনিয়ম দুর্নীতির প্রমাণ পাই অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেব।’
গড়াইয়ের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষা, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, মৎস্য উৎপাদন এবং দক্ষিণাঞ্চল মরুকরণের হাত থেকে রক্ষা পাবে।





