লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও লোকসানের শঙ্কায় কুমিল্লার বোরো চাষিরা

ধান কাটছেন কৃষক
কৃষি , গ্রামীণ কৃষি
এখন জনপদে
0

কুমিল্লায় বোরোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করলেও ধানের দাম পাচ্ছে না কৃষকরা। সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। শ্রমিকের বাড়তি মজুরি দিতে গিয়ে বিপাকে কৃষকরা। পাকা ধান গোলায় ভরতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি খরচ। কৃষিবিভাগ বলছে, ব্যয় কমাতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের দিকে ঝুঁকতে হবে।

বোরো ঘরে তুলতে ব্যস্ত কুমিল্লার কৃষকরা। ব্যস্ত শ্রমিকরাও। এবার ধানকাটা শ্রমিকদের ভালো মজুরি মিলছে কুমিল্লায়। দিনে ১২০০ থেকে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত শ্রমমূল্য পেয়ে সন্তুষ্ট তারা। শ্রমিকরা জানান, চুক্তিতে নয়, হাজিরা হিসেবে কাজ করেন তারা। ১৫০০-১৭০০ টাকা বেতন।

কৃষকদের অভিযোগ, মাঠভরা সোনালি ধান ঘরে তুলতে গিয়ে শ্রমিকের মজুরি দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। একদিকে যেমন ন্যায্য দামে ধান বিক্রি করা যাচ্ছে না। অপরদিকে ধান বিক্রি করে বা ঋণ করে মাঠের ফসল ঘরে তুলতে হচ্ছে। ধানের উৎপাদন খরচ বাড়ায় বিপাকে কৃষকরা।

একজন কৃষক বলেন, ‘সমস্যা হয়ে গেছে এ জায়গাটাতে, এ যে মনে করেন কাজের লোকের দাম বাড়া। ধান পানির সাথে মিশে গেছে। এখন মনে করেন কাজের লোক পাওয়া যাচ্ছে না, দাম বেশি। কাজের লোকের এক মন, দুই মন ধান বেচে একটা কাজের লোকের টাকা দিতে হয়।’

আরও পড়ুন

সরকার ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও ধান সংগ্রহ নিয়ে কৃষকদের রয়েছে নানারকম অভিযোগ।

একজন কৃষক বলেন, ‘সরকার ১৪৪০ টাকা ধান করছে ঠিকই আছে। কৃষক পাইতেছে না। গৃহস্থের কাছে আইসা ধানের দাম বলে ৯০০ টাকা, সাড়ে ৯০০ টাকা। আর সরকারি মিলে নিলেও, মিলে তারা বলে ধানে চিটা আছে, আরও শুকানো লাগবে। এ হয়রানি দেখে কৃষক মিলেও নেয় না।’

উৎপাদন ব্যয় কমাতে কমমূল্যে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের সেবা কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। খাদ্য কর্মকর্তারা জানালেন, তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করছে সরকার।

কুমিল্লা জেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘অলরেডি আমাদের ৯৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ ধান কর্তন হয়ে গেছে। ফলন ভালো, কিন্তু সমস্যা হচ্ছে শ্রমিকের মজুড়ি। এ কারণে তাদের টোটাল উৎপাদন খরচটা বৃদ্ধি পেয়েছে।’

কুমিল্লা সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক গোলাম রাব্বানি বলেন, ‘কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করি। চাল সংগ্রহ করি আমরা, আমাদের যে চুক্তিবদ্ধ আমাদের যে মিল আছে, আমাদের সাথে চুক্তি করছে, আমাদের সাথে লাইসেন্সধারী যে মিল আছে, মিলের কাছ থেকে আমরা সিদ্ধ চাল এবং আতপ চাল সংগ্রহ করি।’

চলতি মৌসুমে বোরো আবাদে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলেও মাঠভেদে উৎপাদনে দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। কোথাও ৪০ শতক জমিতে মিলেছে ২০ মণ ধান, আবার কোথাও উৎপাদন নেমে এসেছে ১০ থেকে ১২ মণে। ফলন, বাজারদর ও উৎপাদন ব্যয়ের সমন্বয়ে লাভ-ক্ষতির হিসাব কষছেন কৃষকরা। উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে যুগোপযোগী কৃষি যান্ত্রিকীকরণ সরবরাহ করবে সরকার।

জেআর