বেড়েছে সরবরাহ, নেই ক্রেতা—দরপতনে ক্ষতির মুখে ঝিনাইদহের আমচাষিরা

ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের আম
কৃষি , গ্রামীণ কৃষি
এখন জনপদে
0

বড় ধরনের দরপতন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের আম বাজারে। প্রচণ্ড গরমে দ্রুত আম পেকে যাওয়ায় হাটে সরবরাহ বেড়েছে কয়েকগুণ, তবে সেই তুলনায় কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার অভাব। উৎপাদন ও পরিবহন খরচ তোলা নিয়েই শঙ্কায় স্থানীয় বাগান মালিক ও চাষিরা।

আমের সুবাসে মুখরিত ঝিনাইদহের কোট চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী আমের হাট। তবে সুবাস ছড়ালেও, চাষি ও ব্যবসায়ীদের মনে এখন শুধুই লোকসানের গন্ধ। হঠাৎ করেই বাজারে আমের দামে নেমেছে চরম ধস।

ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা বলছেন, প্রচণ্ড গরমে খুব দ্রুত পেকে গেছে আম। ফলে চাহিদার তুলনায় হাটে সরবরাহ অনেক বেশি। অথচ সেই অনুপাতে বাজারে দেখা নেই বড় ব্যাপারির। গত কয়েকদিন ধরে এ হাটে প্রতি মণ হিমসাগর আম বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকায়। আর গোপালভোগ ও গুটি জাতের আম বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ১২০০ টাকা মণে। যাতে সবচেয়ে বেশি লোকসানের মুখে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা। তারা জানান, এ বছরে প্রচুর পরিমাণ আম হয়েছে। কিন্তু আমের ন্যায্য পরিমাণ দাম নেই তাই হতাশ তারা।

আরও পড়ুন

একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘কৃষক এখানে আসছে, টাকাটা নগদ টাকায় বিক্রি করে মাল নিয়ে যায়। ঠিক আছে? কিন্তু সেই তুলনামূলক যে ফলন বা আপনার ওষুধের যে খরচ, সেটা এ বছর হয়নি।’

চলতি বছর ঝিনাইদহ জেলায় মোট ২ হাজার ৪৪৭ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, বাজারে হঠাৎ জোগান বেড়ে যাওয়ায় সাময়িক এ মূল্যহ্রাস। তবে লোকসান এড়াতে চাষিদের আগাম এবং লেটজাতের আম চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন এ কর্মকর্তা।

ঝিনাইদহের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বাগানের কৃষক ভাইদেরকে বলছি যেন তারা আগাম এবং লেট জাতের বাগানও সৃজনের জন্য। একেবারে আগাম যে জাতগুলো আছে, সেগুলো চাষ করলেও মৌসুমের শুরুতে তারা ভালো দাম পেয়ে থাকে। এভাবে যদি আমরা বাগান সৃজন করতে পারি, তাহলে হচ্ছে আমরা আমের ভালো মূল্য নিশ্চিত করতে পারব।’

উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়ায় এবার লোকসানের পাল্লা ভারি হলেও, আশা ছাড়ছেন না সংশ্লিষ্টরা। যদিও সংশ্লিষ্ট অনেকেই আশঙ্কা করছেন আমের বাজার আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

জেআর