রামিসার ঘাতক সোহেল জুয়ায় ঋণী হয়ে ঘরছাড়া, এলাকাতেও ছিল ছিঁচকে চোর

অভিযুক্ত সোহেল রানা
এখন জনপদে
অপরাধ
0

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যাকারী সোহেল রানার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। নাটোরের সিংড়ার মহেশচন্দ্রপুর দক্ষিণপাড়ার যে বাড়িতে তার বেড়ে ওঠা, সেই ভিটে থেকেই তিন বছর আগে তাকে বের করে দিয়েছিলেন নিজের বাবা জাকির আলী। মূল কারণ ছিল, জুয়া খেলে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ এবং এলাকার নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়া।

সোহেলের বোন জলি বেগম জানান, ঋণের জালে জড়িয়ে পড়া এবং উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের কারণে তিন বছর আগে বাবার ধমক খেয়ে বাড়ি ছাড়ে সোহেল। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার আর কোনো যোগাযোগ ছিল না। এমনকি ১২ বছর আগে নিজের প্রথম স্ত্রীকেও তালাক দিয়েছিল সে, ফেলে গিয়েছিল আট মাস বয়সী শিশু সন্তানকে। পরে দ্বিতীয় বিয়ে করে ঢাকা পাড়ি দেয় এই ঘাতক।

গ্রামবাসীদের তথ্যমতে, মহেশচন্দ্রপুর বাজারে একসময় সাইকেল মেকানিকের কাজ করত সোহেল। কিন্তু জুয়ার টাকার নেশায় সে ক্রমে ছিঁচকে চুরিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তার বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক চুরির মামলাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে সোহেলের নৃশংসতার ছবি দেখে হতবাক তার গ্রামের মানুষ। যে শিশুটির ওপর সে পাশবিকতা চালিয়েছে, সেই খবর পৌঁছানোর পর এলাকায় বইছে নিন্দার ঝড়। নিজের ভাই এমন জঘন্য কাজ করতে পারে, তা ভেবে শিউরে উঠছেন বোন জলি বেগমও। এলাকার সাধারণ মানুষ এখন ‘মেকানিক’ থেকে ‘খুনি’ হয়ে ওঠা সোহেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।

বাবার ত্যাজ্য করা এবং সমাজের চোখে অপরাধী এই সোহেল রানা শেষ পর্যন্ত যে এমন ভয়ংকর খুনি হয়ে উঠবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তার পরিচিতজনরা।

এসএস