বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে শ্রমিক অসন্তোষ; ফেইস বোনাসের দাবিতে উত্তাল খনিপ্রাঙ্গণ

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে শ্রমিক অসন্তোষ
অর্থনীতি , শিল্প-কারখানা
এখন জনপদে
1

ঈদুল আজহার আগেই ফেইস বোনাস প্রদান না করলে খনির কোনো কর্মকর্তাকে বাড়ি যেতে দেয়া হবে না—এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির শ্রমিক-কর্মচারীরা।

আজ (বৃহস্পতিবার, ২১ মে) সকাল থেকে খনি কম্পাউন্ডের আবাসিক গেটে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। তাদের অভিযোগ, গত জানুয়ারি মাসে ১৪০৬ নম্বর কোল ফেইসের কয়লা উত্তোলন সম্পন্ন হলেও এখন পর্যন্ত সেই ফেইসের বোনাস পরিশোধ করা হয়নি।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের উপদেষ্টা ও দিনাজপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফরিজার রহমান তপু, সভাপতি রায়হানুল ইসলাম এবং সদস্যসচিব আশরাফুল ইসলাম। তাদের সঙ্গে একাধিক শ্রমিক নেতাও বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা জানান, ২০১৫ সাল থেকে শ্রমিকরা নিয়মিতভাবে ফেইস বোনাস পেয়ে আসছেন। এবার সেই বোনাস আটকে রাখায় শ্রমিকদের মধ্যে গভীর ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

আরও পড়ুন:

তারা অভিযোগ করেন, খনির কর্মকর্তাদের ফেইস বোনাস এরইমধ্যে পাশ হয়েছে, অথচ শ্রমিকদের বোনাস এখনও ঝুলে রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কর্মকর্তা ও শ্রমিক উভয়পক্ষের বোনাস একইসময়ে পরিশোধ করার বিধান থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।

শ্রমিক নেতারা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আগামী শনিবার (২৩ মে) থেকে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করা হবে। ঈদুল আজহার আগে বোনাস না পেলে প্রয়োজনে খনির গেটেই ঈদের জামায়াত আদায় করা হবে এবং আন্দোলন আরও তীব্র রূপ নেবে।’

পরিস্থিতি সামাল দিতে খনির জেনারেল ম্যানেজার (মাইনিং) খান মো. জাফর সাদিক শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তিনি শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে জানান, খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

কিছু প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।

তবে শ্রমিক নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন— আশ্বাসে নয়, ঈদের আগে বোনাসের নগদ অর্থ হাতে পেলেই কেবল তারা আন্দোলন থেকে সরে আসবেন।

এসএস