এর আগে, গত শনিবার রাতে ফতুল্লা থানার পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। একই ঘটনায় অনিক নামে আরও এক যুবক গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত জিসান পশ্চিম মাসদাইর এলাকার ইউনুস মিয়ার ছেলে।
মামলার এজাহার ও নিহতের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলে জিসানকে বাসা থেকে ডেকে পশ্চিম মাসদাইরের আল ফালাহ জামে মসজিদ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ও অনিক নামের আরেক যুবককে ছিনতাইয়ের অভিযোগে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে রাখা হয়। পরে আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠনের নেতা ও মসজিদের ইমাম কাওসার হোসেনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি স্টিলের পাইপ ও কাঠের লাঠি দিয়ে তাদের ওপর বর্বর নির্যাতন চালান।
খবর পেয়ে জিসানের মা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং লিখিত মুচলেকা দিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ছেলেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিসানের মৃত্যু হয়।
এদিকে, নির্মম এ নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বাঁধা দুই যুবককে কয়েকজন ব্যক্তি পালাক্রমে লাঠি ও স্টিলের পাইপ দিয়ে পিটাচ্ছেন। আর আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতা নীরব দর্শক হয়ে সেই দৃশ্য দেখছেন এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছেন।
আরও পড়ুন:
এলাকাবাসীর একটি অংশের দাবি, নিহত জিসান এলাকায় ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই নানা অভিযোগ ছিল।
তবে মারধর ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন প্রধান আসামি ও আল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম কাওসার হোসেন। তিনি দাবি করেন, ‘আল ফালাহ একটি সামাজিক সংগঠন যা এলাকাবাসী ও প্রশাসনের সহযোগিতায় বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে কাজ করে। জিসানকে আগে একাধিকবার সতর্ক করে সংশোধনের জন্য ৪০ দিনের চিল্লায়ও পাঠানো হয়েছিল। ঘটনার দিন উত্তেজিত এলাকাবাসী জিসানকে মারধর করে আমাদের কাছে নিয়ে আসে। পরে পুলিশে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নেয়া হলেও জিসানের মা মুচলেকা দিয়ে তাকে সুস্থ অবস্থায় নিয়ে যান। মারধরের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মায়ের দায়ের করা মামলায় ছয়জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ভিডিও দেখে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
এদিকে, এই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জনসাধারণকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়ার জন্য কঠোর আহ্বান জানানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ছিনতাই বা অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে তাকে গণপিটুনি না দিয়ে সরাসরি পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে। এতে করে দেশে ‘মব জাস্টিস’ বা মব সৃষ্টির প্রবণতা কমবে এবং আইনের শাসন সুসংহত হবে।

 Cadre Specialist Physician Forum forms a human chain-320x167.webp)



