‘ইন্ডিয়ান অস্ত্র, ও আমাকে এক রাউন্ড গুলি করলো। এর আগে ইউসুফকে গুলি করল, মানে দুই রাউন্ড। তৃতীয় রাউন্ড ও আমাকে করল। চতুর্থ রাউন্ডে ওর ফাইসা গেল। যার জন্য ভাই আমাকে আল্লাহ সেভ করছে।’—
কিভাবে শেষ রক্ষা হলো? সে বর্ণনাই দিচ্ছিলেন কাফরুল যুবদলের সদস্য সচিব বাবু। সবাই তাকে ডিস বাবু নামেই চেনে। মূলত ময়লা ব্যবসা, ফুটপাতের দোকান নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারই এই হামলার প্রধান লক্ষ্য। এ ঘটনায় অবশ্য ৮ জন গ্রেপ্তারও হয়েছে। মূল পরিকল্পনা নাকি করেছিলেন সিএনজি হাফিজ নামের এমন যুবদল নেতা।
একইভাবে এই ঘটনার ৮ মাস আগে পল্লবী এলাকার সদস্য সচিব কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করে দূর্বৃত্তরা। অবশ্য এ ঘটনায়ও পুলিশ অপরাধীদের গ্রেপ্তার করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে।
এছাড়া পুরাণ ঢাকার ন্যাশনাল হাসপাতালের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয় মামুন নামের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে। এর কয়েক মাসের ব্যবধানে টিটন নামের আরেকজনকে গুলি করে হত্যা করা হয় যিনি দীর্ঘ দিন জেলে ছিলেন।
এই সব ঘটনায় কি আসলেই কোন শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হাত রয়েছে নাকি সব গুজব?
এখনটিভিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন একজন তথ্যদাতা বলেন, ‘ফোর স্টার গ্রুপ যার যার এরিয়া ভাগ করে নিছে আর কি। যে তুমি এতটুক, তুমি এতটুক, তুমি এতটুক। আর একটা আছে, এরা আছে ভাসানটেক আর এক নাম্বার এই দুই জায়গাটায় নিয়ন্ত্রণ করে। শাহাদাতের বন্ধু ইমন।’
আরও পড়ুন:
সামনা সামনি কথা না বলে ফোনে তথ্য দিয়েছেন। গোপন রাখতে অনুরোধ করেছেন। এবার একটু ঘুরে দেখে আসি রাজধানীর থানা গুলোতে শীর্ষ সন্ত্রাসী অথবা অপরাধীদের কোন তালিকা আছে কি না?
৫ আগস্টে ছাত্র-জনতা পুড়িয়ে দেয় রমনা থানা। সে সময় লুট হয় এ থানার অধিকাংশ অস্ত্র, পুড়িয়ে যায় সব ধরনের অপরাধের নথি। এ ঘটনার দুই বছর পর কতটুকু ঘুরে দাঁড়াল থানাটি এবং যারা অপরাধী, চুরি, ছিনতাই এবং খুনের সঙ্গে জড়িত, সেই তথ্য নতুন করে তারা সংগ্রহ করেছে কি—
রমনা থানায় গিয়ে পাওয়া গেল না কিছুই। অপরাধীদের তেমন কোন তথ্য খুঁজে পাওয়া গেল না। এবার গন্তব্য ধানমন্ডি থানায়।
এখানেও পাওয়া গেল না কোনো তথ্য। ছিনতাইকারী চাঁদাবাজ অথবা বর অপরাধীর কোন তালিকাই নেই সেখানে।
এবার গন্তব্য ডিবি প্রধানের কাছে। সেখানে গিয়ে জানা গেলো শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে অনেকেই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। তবে ছাড় পাবে না কেউ। এছাড়া অপরাধীদের তথ্য হালনাগাদ রয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রত্যেকেরই একটা এলাকার ঠিকানা থাকে। সাধারণত ওই এলাকায় কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে বলে যে তার লোকজন করছে। আমি আবারও বলতেছি যে আমরা কারও নামকে গুরুত্ব দিচ্ছি না, আমরা অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখতেছি। এবং সে যেকোনো অপরাধীই হোক, সে যেখানেই থাকুক, যে অপরাধ কর্মকাণ্ডই করুক, আমরা তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব। কে কার অনুসারী এটা আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না।’
পুলিশ হেড কোয়ার্টার বলছে সব ধরণের অপরাধীদের তথ্য সংগঠন করা আছে। যদিও মাঠ পর্যায়ে এর মিল নেই।
পুলিশ হেজকোয়াটারের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনের এআইজি এ এইচ এম শাহদাত হোসাইন বলেন, ‘অভিযান করার স্বার্থেই আমরা তালিকাটা প্রকাশ করি না। কিন্তু বাস্তবিকভাবে প্রত্যেকটা বিষয়ই আমাদের নজরে আছে এবং এইজন্য আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে। খুনের যে পরিসংখ্যান, তিন মাসে ৯০০ সামথিং, তো এইটা পরিসংখ্যানটা আসলে খুবই স্বাভাবিক। কারণ আমরা গত দুই দশকের যে খুনের যে পরিসংখ্যান, এইটা এভারেজ বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে তিন হাজারের মতো হত্যাকাণ্ড ঘটে।’
তালিকা তৈরি করে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে বলে মনে করে অপরাধ সংশ্লিষ্টরা।





