বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন তেল পরিশোধন করে বাজারজাত করে ইস্টার্ন রিফাইনারি। অপরিশোধিত তেলের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ আমদানি করা হয় সৌদি আরব থেকে। মাসে গড়ে এক থেকে দুটি মাদারভেসেল ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে সৌদি আরবের রাস তানুরা টার্মিনালে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে আটকা পড়ে একটি জাহাজ। জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে হরমুজ প্রণালী পার হতে পারছে না।
এমন শঙ্কার মাঝেও সুখবরর দিলো, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন-বিএসসি। এপ্রিলের মাঝামাঝি লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে আসবে একটি জাহাজ। একইসঙ্গে আটকে পড়া জাহাজের ১ লাখ টন তেল অন্য জাহাজে খালাস করে দেশে আনার কথা ভাবছে বিপিসি।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘সব ধরনের ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেল আনভেইল করার চেষ্টা করছি, কোনোভাবে জাহাজটিকে বের করে আনা যায় কি না। সেই সঙ্গে আমরা আরও কিছু অপশন তৈরি করেছি। এ জাহাজ থেকে মাল খালাস করে অন্য কোনো দেশের জাহাজে করে আনা যায় কি না সেটিরও ব্যবস্থা চলছে।’
আরও পড়ুন:
বিপিসির হিসেব মতে বর্তমানে ডিজেলের মজুদ আছে ১৪ দিনের। মজুদ কম থাকলেও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে নিয়মিত ডিজেলের চালান আসায় সরবরাহ ঘাটতির শঙ্কা নেই। তবে, সবচেয়ে কম মজুদ আছে অকটেন ও পেট্রোল। অকটেন আছে মাত্র ৯ দিনের ও পেট্রোল ১১ দিনের। পেট্রোলের প্রায় শতভাগ এবং অকটেনের বড় অংশই দেশিয় শোধনাগারে প্রক্রিয়াজাত করে উৎপাদিত হয়।
অপরিশোধিত তেলের মজুদ ফুরিয়ে আসায় কমিয়ে দেয়া হয়েছে সরবরাহ। চাহিদা অনুযায়ী তেল না পেয়ে সীমিত পরিসরে চলছে অনেক পেট্রোল পাম্প।
গ্রাহকরা জানান, তারা পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল পাচ্ছেন না। পাম্পে তারা অকটেনের সংকট পাচ্ছেন। পাম্প থেকে অকটেন দেয়া হচ্ছে না বলেও জানান তারা।
ফার্নেস অয়েল ২৯ দিন ও জেট ফুয়েল ২৩ দিনের মজুদ থাকায় আপাতত কোনো শঙ্কা নেই। কেরোসিন ও মেরিন ফুয়েলের মজুদও সন্তোষজনক। তবে হরমুজ প্রণালী চালু না হলে বিকল্প পথে জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি ভাড়া গুনতে হবে বিপিসিকে। পরিশোধিত তেল আমদাানিতেও ব্যয় হবে অতিরিক্ত অর্থ। ২২ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে ২৫টি জাহাজ থেকে ডিজেলসহ বিভিন্ন জ্বালানি তেল খালাস হয়েছে। বর্তমানে খালাস চলছে দুটিতে এবং পথে আছে আরও দুটি জ্বালানিবাহী জাহাজ।





