বিশ্ববাজারে পিছিয়ে বাংলাদেশ, বিশেষায়িত চা উৎপাদনের পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের

চট্টগ্রাম
চা পাতা তোলা হচ্ছে
এখন জনপদে
অর্থনীতি
0

সাধারণ চায়ের পাশাপাশি দেশে বিদেশে ভোক্তাদের কাছে চাহিদা বাড়ছে বিশেষায়িত নানা রকম চায়ের। যেসব চা পাতার প্রতি কেজি মূল্য হাজার টাকা থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু এ বিশেষায়িত চা পাতা উৎপাদনে প্রতিযোগী দেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। এদিকে বছরে ৯৫ মিলিয়ন কেজি সাধারণ চা পাতা উৎপাদনের পরও দামের কারণে লোকসান গুনছে চা বাগান মালিকরা। চা খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানি বাড়িয়ে চা খাতকে লাভজনক করতে বিশেষায়িত চা উৎপাদনে নজর দিতে হবে বাগান মালিকদের।

প্রতিদিন ১২- ১৩ কোটি কাপ চায়ে চুমুক দেয় দেশের মানুষ। নির্বাচনের এ বছরে সে চাহিদা ছিলো আরও বেশি। এ বিপুল চাহিদার যোগান দেয় দেশের ১৭১ টি চা বাগান। ২০২৫ সালে দেশে চা পাতার উৎপাদন হয়েছে ৯৫ মিলিয়ন কেজি। যা আগের বছরের তুলনায় ২ মিলিয়ন বেশি।

বিডাররা জানান, দেশে ভালো মানের চায়ের উৎপাদন হলেও চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত উৎপাদন না হওয়ায় নিলামে দফায় দফায় বাড়ছে চা পাতার দাম।

পাটোয়ারি টি এজেন্সির মালিক মো. রাহেল পাটোয়ারি বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে চায়ের মূল্য নির্ধারণ করে দেয়ার কারণে চা উৎপাদন অনেক কম। এ কারণে বাজারে চায়ের দাম অনেক বেশি।’

তবে দুঃখজনক হলো, চা পাতার দাম বাড়লেও লোকসানে বাগান মালিকরা। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া ও যথাযথ নজরদারির অভাবকে দুষছেন তারা। এজন্য বিশেষায়িত চা উৎপাদনে জোর দেয়ার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।

আরও পড়ুন:

চট্টগ্রামের সুপার শপগুলোয় বর্তমানে পাওয়া যায়; চীন, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা নানা রকম বিশেষায়িত চা। এসব চা পাতার কেজি হাজার টাকা থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত। দেশের বাজারেও দিন দিন ভালো মানের চায়ের ভোক্তা বাড়লেও দামি চায়ের কদরে এখনো অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ।

রাজধানী ফুড প্রোডাক্টসের বিডার ও মালিক মো. সজিব বলেন, ‘সুপার শপে যে চাগুলো আসে তা বিভিন্ন ধরনের চা। এই প্রক্রিয়াটি দেশের বাহিরে অনেক বেশি কাজ হচ্ছে বর্তমানে আমাদের দেশেও চা নিয়ে কাজ চলছে।’

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নরমাল ব্লাকটি দিয়ে আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে পারছি না। আমরা যদি কোয়ালিটি পূর্ণ চা নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজের ঢুকতে পারি তাহলে আমরা অনেক দামে তা বিক্রি করতে পারবো।’

বর্তমানে দেশে উৎপাদিত চা পাতার ২ শতাংশ বিদেশে রপ্তানি হয়, মূলত উৎপাদন খরচের কারণে শ্রীলঙ্কা, ভারত বা কেনিয়ার সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেনা বাংলাদেশ।

জেআর